প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
দিনভর ঝুম বৃষ্টি সাথে জলাবদ্ধতা: আষাঢ়ের টানা বর্ষণে মুকসুদপুর যেন থমকে গেছে!
নতুন আলো ডেস্ক ||
আষাঢ়ের এই টানা রিমঝিম বৃষ্টি যেন থামতেই চাইছে না। সারাদেশের মতো মুকসুদপুর উপজেলার জনজীবনও এই কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন ঘর থেকেই বের হচ্ছেন না, যার কারণে রাস্তাঘাট একদম ফাঁকা। আর এই বৃষ্টির দিনে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল আমাদের এলাকার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। ভ্যানচালক কিংবা দিনমজুরদের দৈনন্দিন আয় এখন একপ্রকার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।টানা বর্ষণে মুকসুদপুর পৌরসভার ভেতরের রাস্তাগুলোর এখন বেহাল দশা। ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না, ফলে তৈরি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ভাঙাচোরা আর খানাখন্দে ভরা রাস্তায় চলাচল করা এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পথচারী, চাকরিজীবী কিংবা রোগীদের প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মুকসুদপুর বাজারের ফরিদ মিয়া কমপ্লেক্স এলাকা থেকে গোপীনাথপুর তিন রাস্তার মোড় হয়ে কোয়ালিটি লার্নার স্কুল ও গোপীনাথপুর চরপাড়া পর্যন্ত সড়কের। ফরিদ মিয়া কমপ্লেক্স সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত এখন রীতিমতো হাঁটুপানি জমে আছে। গোপীনাথপুর এলাকার বিভিন্ন স্পটে সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় ঠিকমতো গাড়িও চলতে পারছে না। অন্য দিকে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় গ্রামগুলোর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা একপ্রকার ধীরগতির হয়ে পড়েছে।এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভিজতে ভিজতে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। তাছাড়া হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ঘরে ঘরে এখন জ্বর, সর্দি-কাশি আর ঠান্ডাজনিত রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। পরিস্থিতি এমন যে, উপজেলার বিভিন্ন ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে সাধারণ মানুষের বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।আজ রোববার (১২ জুলাই) সরেজমিনে মুকসুদপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় , সকাল থেকেই প্রধান সড়কগুলোতে মানুষ ও যানবাহনের উপস্থিতি ছিল হাতগোনা। পুরান বাজার, টেংরাখোলা চৌরঙ্গী মোড়, কলেজ গেট কিংবা সোনালী ব্যাংক মোড়ে পরিবহনে যাত্রী ছিল না বললেই চলে। বেশিরভাগ দোকানপাটও ছিল ক্রেতাশূন্য। কিছু ভ্যান ও ইজিবাইক চললেও যাত্রীদের অভিযোগ—চালকেরা বৃষ্টির অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।তবে মুকসুদপুর সদর এলাকার ৪৫ বছর বয়সী ভ্যানচালক(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) আক্ষেপ করে বললেন, সকাল থেকে যে হারে বৃষ্টি নামছে, রাস্তায় তো কোনো মানুষই নেই। সারাদিন এমন বৃষ্টি থাকলে রাতে ঘরে চাল কেনার টাকাই জুটবে না।এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বললে তারা জানান—এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে পৌর কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে জলাবদ্ধতা দূর করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো