প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
স্বাদে অনন্য কুষ্টিয়ার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কুলফি মালাই
নাহিদ হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি ||
সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া জেলা শুধু বাউল সম্রাট লালন শাহের মাজার কিংবা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহের কুঠিবাড়ির জন্যই বিখ্যাত নয়, এ জেলার রয়েছে শত বছরের প্রাচীন খাদ্যের ঐতিহ্য। আর এই ঐতিহ্যের তালিকায় অন্যতম শীর্ষে রয়েছে কুষ্টিয়ার কুলফি মালাই। সর্দি-কাশির ভয় ভুলে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সীদের কাছেই এই কুলফি মালাই এখন এক পরম তৃপ্তির নাম।অবিভক্ত ভারত উপমহাদেশের নদীয়া জেলার অংশ ছিল এই কুষ্টিয়া। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের সময়কার নদীবন্দর থেকে শুরু করে ব্রিটিশ আমলের রেল যোগাযোগ—সবই এ জেলার সমৃদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী। দেশের প্রথম রেলওয়ে স্টেশন জগতি এবং একসময়ের নামকরা বস্ত্রকল মোহিনী মিল আজও কুষ্টিয়ার সোনালী দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। পদ্মা ও গড়াই নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই জনপদ এখন সারা দেশে পরিচিত তার অনন্য স্বাদের খাবারের জন্য।সম্প্রতি কুষ্টিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এক বাস্তব সত্য। দেশের অন্য যেকোনো স্থানে কুষ্টিয়ার কুলফি বলে যা বিক্রি হয়, তার চেয়ে এখানকার আসল কুলফির স্বাদ আকাশ-পাতাল ভিন্ন। বিশেষ করে কুষ্টিয়া শহরের মীর মোশাররফ হোসেন সেতুর (গড়াই সেতু) পূর্ব পাশে বসা দোকানগুলো এখন কুলফিপ্রেমীদের প্রধান আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।ছবি : দৈনিক নতুন আলোস্থানীয় বিক্রেতারা জানান, তাঁরা অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে খাঁটি দুধ, কিসমিস, এলাচ ও কিছু বিশেষ উপাদানের মিশ্রণে বাড়িতেই এই মালাই তৈরি করেন। প্রতি পিস কুলফি এখানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০ টাকায়। স্বাদ ও মানের ব্যাপারে বিক্রেতারা এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে, গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে তাঁদের চ্যালেঞ্জ— যদি খেয়ে মজা না লাগে, তবে দাম দিতে হবে না।খুলনা থেকে অফিসের কাজে কুষ্টিয়া আসা এক দর্শনার্থী জানান, অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকার পরেও কুষ্টিয়ার কুলফি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা ছিল। তাই এখানে এসে একসঙ্গে চারটি কুলফি খেয়েছি। এখানকার মালাইয়ের যে ঘন ও শীতল স্বাদ, তা মুহূর্তেই সব ক্লান্তি দূর করে মন সতেজ করে দেয়। শুধু তাই নয়, স্বাদ মুখে লেগে থাকায় অনেক পর্যটকই ফেরার সময় তাঁদের পরিবারের জন্য বাসায় পার্সেল করে নিয়ে যাচ্ছেন এই বিখ্যাত খাবার।কুষ্টিয়ার তিলের খাজা আর কুলফি মালাই এখন শুধু কোনো সাধারণ খাবার নয়, এটি এ জেলার গর্ব ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যাঁরা ঐতিহ্যবাহী এবং নির্ভেজাল খাবারের আসল স্বাদ নিতে চান, তাঁদের জন্য কুষ্টিয়ার এই কুলফি মালাই হতে পারে সেরা অভিজ্ঞতা।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো