প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
গাজর খেলে কি সত্যিই চশমা লাগে না? জেনে নিন চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে
স্বাস্থ্য ডেস্ক ||
শৈশব থেকেই অনেকের কাছে একটি প্রচলিত কথা শোনা যায়—গাজর খেলে চোখের দৃষ্টি ভালো হয় এবং চশমার প্রয়োজন কমে যায়। গাজর নিঃসন্দেহে অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি সবজি, তবে এটি খাওয়ার ফলে দৃষ্টিশক্তি আসলে কতটা উন্নত হয়, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে রয়েছে নানা ভুল ধারণা।গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন আমাদের শরীরে প্রবেশ করে ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়। চোখের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে কম আলোতে বা রাতের অন্ধকারে দেখার ক্ষমতা ঠিক রাখতে এটি চোখের রেটিনাকে সরাসরি সহায়তা করে এবং সামগ্রিকভাবে চোখের সুস্থতা বজায় রাখে।তবে এর মানে এই নয় যে, নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে গাজর খেলে কারও দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তীক্ষ্ণ হয়ে যাবে কিংবা চশমা ছাড়াই সব দেখা সম্ভব হবে। শরীরে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতির কারণে যে দৃষ্টিজনিত সমস্যা তৈরি হয়, তা প্রতিরোধে গাজর অবশ্যই উপকারী। কিন্তু চোখের গঠনগত আকৃতি বা প্রতিসরণজনিত সমস্যার কারণে হওয়া ক্ষীণদৃষ্টি (Short-sightedness), দূরদৃষ্টি (Long-sightedness) বা অন্য কোনো দৃষ্টিসংক্রান্ত জন্মগত ত্রুটি কেবল গাজর খেয়ে দূর করা সম্ভব নয়।যাঁদের শরীরে ভিটামিন ‘এ’-এর মাত্রা ইতোমধ্যেই পর্যাপ্ত রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গাজর খেলে চোখের ক্ষমতা আরও বেড়ে যায় না। তবে প্রতিদিনের সুষম খাদ্যতালিকায় গাজর রাখা শরীরের জন্য ভালো। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর আঁশ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়তা করে।পুষ্টিবিদদের মতে, কোনো কিছুই অতিরিক্ত খাওয়া ভালো নয়। অনেক বেশি পরিমাণে দীর্ঘদিন ধরে গাজর খেলে রক্তের ক্যারোটিন স্তর বেড়ে যায়, ফলে ত্বকে হালকা হলুদ বা কমলা রঙের আভা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে ‘ক্যারোটেনেমিয়া’ বলা হয়। এটি সাধারণত শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কিছু নয় এবং গাজর খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিলে ধীরে ধীরে ত্বক আবার স্বাভাবিক রঙে ফিরে আসে।চোখের সুরক্ষায় শুধু গাজরের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনা জরুরি। লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিনসমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি (যেমন: পালং শাক), ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত সামুদ্রিক মাছ ও আখরোট, এবং ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘ই’ ও জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার চোখের দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।অতএব, গাজর চোখের জন্য উপকারী হলেও এটি কোনো অলৌকিক ওষুধ নয়। এটি চশমার প্রয়োজনীয়তা রাতারাতি দূর করে দিতে পারে না। চোখ সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা, নিয়মিত চোখের যত্ন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো