প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬
ঈদে ১৬ সিনেমার ঘোষণা: সীমিত প্রেক্ষাগৃহে চরম হলযুদ্ধের শঙ্কা
বিনোদন ডেস্ক ||
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ঈদ মানেই বড় বাজেটের সিনেমা আর দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। তবে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ঢাকাই সিনেমায় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে। এবার রোজার ঈদে মুক্তির মিছিলে রয়েছে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৬টি সিনেমা। এ নিয়ে চলচ্চিত্র পাড়ায় এখন বড় প্রশ্ন—সীমিত সংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে আদৌ কি এতগুলো সিনেমা প্রদর্শিত হওয়া সম্ভব?
প্রেক্ষাগৃহের করুণ চিত্র ও হলযুদ্ধ
বর্তমানে দেশে নিয়মিত সচল প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা মাত্র ৬০-৭০টি। ঈদ উপলক্ষে বন্ধ থাকা কিছু হল সাময়িকভাবে চালু হলেও সেই সংখ্যা বড়জোর ১৪০-এর কাছাকাছি পৌঁছায়। এই সামান্য সংখ্যক হল নিয়ে ১৬টি সিনেমার মুক্তিকে উচ্চাভিলাষী ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। কে কোন হল পাবে এবং কোন সিনেমা কতটি শো পাবে—তা নিয়ে এখনই শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা বা হলযুদ্ধ।
আলোচনায় যেসব সিনেমা
আসন্ন ঈদে দর্শকদের মূল আকর্ষণে রয়েছেন মেগাস্টার শাকিব খান। তিনি ফিরছেন নব্বই দশকের গ্যাংস্টার ঘরানার সিনেমা প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা নিয়ে। এছাড়া দীর্ঘ বিরতির পর আফরান নিশো ফিরছেন দম সিনেমা দিয়ে। সিয়াম আহমেদ ও সুস্মিতা চ্যাটার্জির রাক্ষস এবং বুবলী ও নাজিফা তুষির প্রেশার কুকার নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
মুক্তির তালিকায় আরও আছে— বনলতা এক্সপ্রেস, বনলতা সেন, রঙবাজার, কাট পিস, পিনিক, ট্রাইব্যুনাল, হাঙর, মালিক, দুর্বার, ডোডোর গল্প, তছনছ এবং অফিসার।
নির্মাতাদের উদ্বেগ ও বিশেষজ্ঞদের মত
অতিরিক্ত সিনেমা মুক্তি নিয়ে নির্মাতা তানিম নূর বলেন, ঈদ মৌসুমে দর্শক বেশি থাকে বলে সবাই এই সময়টিকে বেছে নেন। বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য এটি উপযুক্ত সময় হলেও একসঙ্গে ১৬টি সিনেমা মুক্তি পেলে শেষ পর্যন্ত কারোর জন্যই ভালো ফল বয়ে আনবে না।
চলচ্চিত্র নির্মাতা খিজির হায়াত মনে করেন, বছরে শুধু দুই ঈদকে কেন্দ্র করে সিনেমা মুক্তির প্রবণতা শিল্পের জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, প্রযোজক সমিতি ও পরিবেশকদের উচিত সমন্বয়ের মাধ্যমে ঈদে সর্বোচ্চ ৪-৫টি সিনেমা রাখা। বাকিগুলো সারা বছর মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন। পর্যাপ্ত শো না পেলে ভালো সিনেমাও দর্শক পায় না, যা বিনিয়োগের জন্য বড় ক্ষতি।
ঈদ কেন্দ্রিক প্রবণতার প্রভাব
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রিয়তমা, সুড়ঙ্গ বা তুফান-এর মতো সিনেমার ব্যবসায়িক সাফল্য নির্মাতাদের ঈদ কেন্দ্রিক করে তুলেছে। এতে ঈদের সময় ব্যবসা ভালো হলেও বছরের বাকি সময় হলগুলো প্রায় ফাঁকা থাকে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সারা বছর ভালো সিনেমা মুক্তি দেওয়ার পরিবেশ তৈরি না করলে সিনেমা হলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো