প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
মুকসুদপুরে রিয়ান হত্যা: আসামিদের ফাঁসির দাবিতে কমলাপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
মোঃ ছিরু মিয়া , নির্বাহী সম্পাদক ||
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের ১৩ বছরের কিশোর রিয়ান মোল্লা হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। আসামিদের ফাঁসির দাবিতে আজ বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় কমলাপুর এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।এই মানববন্ধনে শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থীসহ কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা রিয়ান হত্যার প্রতিবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।মানববন্ধনে নিহত রিয়ানের বাবা রিপন মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, আটক আসামি আরিফ ও মুরছালিন খেলা দেখার কথা বলে আমার ছেলে রিয়ানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তারা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। উদ্ধার করার পর আমার ছেলের গলায় স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। আমি আমার সন্তান হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, সঠিক বিচার এবং আসামি আরিফ ও মুরছালিনের ফাঁসি চাই।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে মুকসুদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল কমলাপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে রিয়ান মোল্লার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়ার জন্য মরদেহটি গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহত রিয়ান উপজেলার কমলাপুর গ্রামের রিপন মোল্লার ছেলে।ঘটনার খবর পেয়ে পরদিন ২১ জুলাই সকালে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুকসুদপুর সার্কেল) মো. নাফিছুর রহমান, মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মতিয়ার মোল্লা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেন।এ বিষয়ে মুকসুদপুর থানা পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে আরিফ ও মুরছালিন নামের দুই যুবককে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। মামলার তদন্তপ্রক্রিয়া জোরদারভাবে চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সংগ্রহ করা প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর সঙ্গে এমন বর্বরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁরা অবিলম্বে মামলার তদন্ত কাজ শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কমলাপুরসহ পুরো মুকসুদপুর উপজেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর শোকের ছায় নেমে এসেছে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো