প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
রামবুটান, ডুরিয়ান থেকে বামন কাঁঠাল—বর্ষায় গাছ রোপণে উৎসাহ বাড়াচ্ছে মাসব্যাপী মেলা।
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
খুলনা নগরীর সার্কিট হাউস ময়দানের টেনিস গ্রাউন্ডের পাশের স্থানটি যেন এখন এক টুকরো জীবন্ত সবুজ অরণ্য। নানা জাতের দেশি-বিদেশি বর্ণিল ফুল, রঙিন ফলে ভরা গাছ আর সুশৃঙ্খল চারার সমাহারে রূপ নিয়েছে এক প্রাকৃতিক উদ্যানে। চলমান মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা হয়েছে নানাবিধ বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছ। বর্ষার এই চারা রোপণের সুবর্ণ সময়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ক্রেতা ও প্রকৃতিপ্রেমী ছুটে আসছেন নিজেদের পছন্দসই গাছ কিনতে।মেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মেলা শুরুর প্রথম ১১ দিনেই (১১ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত) বিক্রি হয়েছে মোট ২১ হাজার ২৩৭টি গাছের চারা, যার মোট বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ ৭ হাজার ১১০ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ৫,৮৪৬টি ফলদ, ৫,৬৬৪টি শোভাবর্ধক, ৫,৫৫১টি ফুল, ১,৭৫৪টি বনজ, ৯৪১টি ঔষধি এবং ১,৪৮১টি অন্যান্য প্রজাতির গাছ।বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও মেলা প্রাঙ্গণে জমে উঠেছে দর্শনার্থীদের সমাগম। প্রতি বছর আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী এই মেলার মূল উদ্দেশ্য—তরুণ প্রজন্মকে গাছপালার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি টেকসই সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। প্রবেশমূল্য মুক্ত এই মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকছে।এবারের মেলার আয়তন ও পরিধিও বেড়েছে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের ডিএফও এ জেড এম হাসানুর রহমান জানান, এ বছর ১০টি সরকারি সংস্থাসহ মোট ৬২টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিয়েছে। বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও চারা বিক্রির যে ধারা শুরু হয়েছে, তাতে গতবারের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।মেলায় বিশেষভাবে নজর কাড়ছে ছাদবাগানের উপযোগী ও বিদেশি জাতের ফলগাছ। বামন প্রজাতির কাঁঠাল, সাদা জাম, কালো জাম, স্ট্রবেরি পেয়ারা ছাড়াও মিলছে অ্যাভোকাডো, পার্সিমন, রামবুটান, লংগান ও ডুরিয়ানের মতো দুর্লভ ফলের চারা। শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনামী ও ভারতের কেরালার নারিকেল চারাও এনেছেন অনেক বিক্রেতা। এ ছাড়া দারুচিনি, এলাচ, গোলমরিচ ও তেজপাতার মতো মসলাজাতীয় গাছ সংগ্রহ করছেন ক্রেতারা। চারা বিক্রিতে এখন পর্যন্ত শীর্ষে রয়েছে মো. নিজাম নার্সারি।খুলনা নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি এস এম বদরুল আলম রয়্যাল বলেন, শুরু থেকেই ক্রেতাদের ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা ও পরবর্তী প্রজন্মকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে রাখতে মেলায় আসা জরুরি। মেলায় আসা টুটপাড়ার বাসিন্দা মকবুল হোসেন ও ঊসুপাড়ার সির্থী শিকদার জানান, তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পরিচিত ও অপরিচিত প্রজাতির গাছ সংগ্রহ করতে পেরে তারা বেশ আনন্দিত।ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার বিভাগের পরিচালিত 'সুন্দরবন স্টল'-এ পরিবেশন করা হয়েছে রূপসী সুন্দরবনের সুন্দরী, খলশি, কাঁকড়া, গর্জন, ধুণ্ডুল ও পশুর মতো বিলুপ্তপ্রায় গাছগাছালি। সঙ্গে রাখা হয়েছে বাঘের মাথার খুলি ও স্থানীয় মাছের সংরক্ষিত বৈজ্ঞানিক নমুনা, যা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বাড়তি আগ্রহ জুগিয়েছে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো