প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
সিকিমে সুড়ঙ্গ ধসে প্রাণহানি বেড়ে ২২, চলছে উদ্ধার অভিযান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ভারতের সিকিম রাজ্যের নামচি জেলায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ২২ জন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এখনো নিখোঁজ থাকা অন্য শ্রমিকদের খুঁজে বের করতে দিনরাত যৌথ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।এর আগে গত সোমবার দুপুরের কিছুক্ষণ পর নির্মাণাধীন ওই সুড়ঙ্গের ভেতরে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিলার ভেতরে দীর্ঘদিনের জমে থাকা দাহ্য গ্যাস হঠাৎ বেরিয়ে এসেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই সুড়ঙ্গ ধসে পড়ে এবং পুরো এলাকা বিষাক্ত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার সময় ভেতরে ২৫ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন এবং তাঁরা সবাই সুড়ঙ্গের গভীরে আটকা পড়েন।রাজ্য সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সুড়ঙ্গের ভেতরের প্রতিকূল পরিবেশ, অনবরত ধসে পড়া ভারী পাথর এবং বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে অভিযান পরিচালনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তা সত্ত্বেও নিখোঁজ শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।সিকিম সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে রাজ্য প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে।প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তাঁদের মধ্যে পার্শ্ববর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ৪ জন শ্রমিক রয়েছেন। এ ছাড়া পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, আসাম ও সিকিমের ১ জন করে শ্রমিকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলার বেশ কয়েকজন শ্রমিকও এই প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।দুর্ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, শিলার ভেতরে জমা হওয়া দাহ্য গ্যাস হঠাৎ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে মুহূর্তে তীব্র ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে পুরো সুড়ঙ্গ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, যার ফলে কর্মরত শ্রমিকেরা সেখান থেকে বের হয়ে আসার কোনো সুযোগ পাননি।ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য পৃথক আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রত্যেক নিহত শ্রমিকের নিকটাত্মীয়কে ৫ লাখ রুপি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের পরিবারপ্রতি ৪ লাখ রুপি এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকেও নিহতদের স্বজনদের জন্য ২ লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো