প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
গোপালগঞ্জে শ্বশুরবাড়ির পুকুরে মিলল এসআই মাহমুদুল ইসলামের মরদেহ, আটক ২
বিশেষ প্রতিনিধি , গোপালগঞ্জ ||
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে বি এম মাহমুদুল ইসলাম (৩৮) নামে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এক কর্মকর্তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে ভাসমান অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।নিহত বি এম মাহমুদুল ইসলাম ৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার মলছড়িতে উপপরিদর্শক (এসআই-সশস্ত্র) পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিজয়পাশা গ্রামের বাসিন্দা হায়দার আলী ভূঁইয়ার ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার সকালে পাইককান্দি এলাকায় মাহমুদুল ইসলামের শ্বশুরবাড়ির পাশ ঘেঁষে থাকা একটি পুকুরে এক ব্যক্তির মরদেহ ভেসে থাকতে দেখেন স্থানীয় অধিবাসীরা। পরে কাছে গিয়ে লাশটি শনাক্তের পর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং উৎসুক জনতা ভীড় জমায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশের একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুর থেকে মরদেহটি ডাঙায় তুলে আনে।নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা গুঞ্জন ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা নাকি অন্য কোনো দুর্ঘটনা, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, সংবাদ পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে জানা যাবে।তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো