প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬
হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব বাংলাদেশে: জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিপিসির বড় সিদ্ধান্ত।
নাহিদ হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি ||
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রভাবে বাংলাদেশে তেল সংকটের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে গিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
শুক্রবার (৬ মার্চ) এক জরুরি নির্দেশনায় বিপিসি জ্বালানি তেল সরবরাহের ওপর নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এখন থেকে একটি যানবাহন দৈনিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল সংগ্রহ করতে পারবে না।
কোন যানবাহনে কতটুকু তেল নেওয়া যাবে?
বিপিসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী যানবাহনের ধরনভেদে তেলের সীমা নিম্নরূপ:
মোটরসাইকেল: সর্বোচ্চ ২ লিটার (পেট্রোল/অকটেন)।
ব্যক্তিগত গাড়ি (কার): সর্বোচ্চ ১০ লিটার (পেট্রোল/অকটেন)।
এসইউভি (জিপ) ও মাইক্রোবাস: ২০ থেকে ২৫ লিটার (পেট্রোল/অকটেন)।
পিকআপ ও লোকাল বাস: ৭০ থেকে ৮০ লিটার (ডিজেল)।
দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান: ২০০ থেকে ২২০ লিটার (ডিজেল)।
কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারি রোধে পদক্ষেপ
বিপিসি জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হওয়ার সুযোগে বাজারে নেতিবাচক গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহক ও ডিলারদের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ ও অবৈধ মজুতের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এই কৃত্রিম সংকট রুখতেই তেলের সরবরাহ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।
রসিদ ও তদারকি ব্যবস্থা
নতুন নিয়মে ফিলিং স্টেশন থেকে ভোক্তাকে অবশ্যই তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করে রসিদ দিতে হবে। প্রতিবার তেল কেনার সময় আগের কেনা তেলের রসিদ দেখাতে হবে। এছাড়া ডিলারদের জ্বালানি তেল সরবরাহের আগে তাদের বর্তমান বরাদ্দ ও মজুতের তথ্য পর্যালোচনা করা হবে এবং কোনোভাবেই বরাদ্দের চেয়ে বেশি তেল দেওয়া হবে না।
সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস
জনগণের আতঙ্ক কমানোর লক্ষে বিপিসি জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে আমদানির নির্ধারিত সূচি বজায় রয়েছে এবং নিয়মিত চালান দেশে আসছে। পাশাপাশি রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে সারা দেশের সব ডিপোতে তেল পাঠানো হচ্ছে। বিপিসি আশা করছে, খুব দ্রুতই দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত বাফার স্টক (মজুত) গড়ে উঠবে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো