প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
ভাঙ্গায় মাদ্রাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে সংঘর্ষ: ১ জনের মৃত্যু, আহত ১০
নাহিদ হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি ||
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ইভটিজিং বা উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ জানানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সানি ব্যাপারী (১৯) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ভাঙ্গা পৌরসভার কৈডুবী সদরদী গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।আহতদের মধ্যে সবুজ ব্যাপারী, মনির ব্যাপারী, আরাফাত হোসেন, শাবানা বেগম ও আতিয়ার ব্যাপারীর নাম জানা গেছে। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কৈডুবী সদরদী এলাকার হযরত ফাতেমাতুজ যহুরা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে একই এলাকার বশার মাতুব্বরের ছেলে জিহাদ মাতুব্বর বেশ কিছুদিন ধরে যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্ত করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।সোমবার সকালে বিষয়টি জানতে পেরে মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি মনির ব্যাপারী ওই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে প্রথম দিকে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হলেও পরবর্তীতে তা চরম বিরোধে রূপ নেয়।একপর্যায়ে বশার মাতুব্বর, বাক্কার মাতুব্বর, আলমগীর মাতুব্বর, হাসান মাতুব্বর ও জাহাঙ্গীর মাতুব্বরের পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ হন। অন্যদিকে মুফতি মনির ব্যাপারী, সবুজ ব্যাপারী, পলাশ ব্যাপারী ও আতিয়ার ব্যাপারীর অনুসারী ও স্বজনেরা তাঁদের মুখোমুখি অবস্থান নেন।প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হলেও একপর্যায়ে উভয় পক্ষ রামদা, ঢাল, সরকি ও টেঁটাসহ নানা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘাত-সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে আতিয়ার ব্যাপারীর ছেলে সানি ব্যাপারীর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা নেওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তরুণ সানি।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আছমত মাতুব্বর জানান, মাদ্রাসার মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় সকালে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় হাতাহাতি হয়। আমরা স্থানীয়রা মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি শান্ত করে সবাইকে বাড়ি পাঠিয়ে দিই। কিন্তু এর প্রায় এক ঘণ্টা পর বশার মাতুব্বর ও মনির ব্যাপারীর লোকেরা আবারও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিরক্ত ও উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সানি ব্যাপারী নামের এক তরুণ মারা গেছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো