প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬
শুরু হলো ঈদের টানা ছুটি: রাজধানী ছাড়ছে মানুষ, টার্মিনালে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।
নাহিদ হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি ||
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শুরু হচ্ছে টানা ছুটি। আর এই ছুটিকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ফলে আজ সকাল থেকেই রাজধানী ছাড়ার ঢল গত কয়েক দিনের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে গেছে।
গতকাল সোমবার অফিস সময় শেষ হওয়ার পর থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা গেছে। ভিড়ের ভোগান্তি এড়াতে অনেক চাকরিজীবী আগেই তাদের পরিবার-পরিজনকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন।
রেলপথে তদারকি জোরদার
কমলাপুর রেলস্টেশনে গতকাল সকালে ভিড় কম থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোতে তদারকি ও যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পায়। অনেককে ট্রেনের ভেতরে দাঁড়িয়ে এমনকি ছাদে উঠেও ভ্রমণ করতে দেখা গেছে। কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষ ট্রেনযোগে ঢাকা ছাড়ছে। আজ মঙ্গল ও আগামীকাল বুধবার এই চাপ আরও বাড়বে। তবে জয়ন্তিকা ও নীলসাগর এক্সপ্রেসের মতো দু-একটি ট্রেন কিছুটা দেরিতে ছাড়লেও বাকি সব ট্রেন নির্ধারিত সময়েই স্টেশন ছেড়েছে।
সড়কপথে যানবাহনের দীর্ঘ সারি
গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বিকেল থেকেই যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলগামী বাসগুলো পূর্ণ যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে রওনা হচ্ছে। এদিকে মহাসড়কের সাভার-নবীনগর-চন্দ্রা, চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় যানবাহনের গতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটেও ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে যানবাহনকে।
গতকাল মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে যান সড়ক ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গত সাত দিনে কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নৌপথে স্বস্তির যাত্রা
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গতকাল বিকেল থেকেই বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালীগামী যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। যাত্রীরা জানান, সড়কপথের যানজট এড়াতে এবং আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য তারা নৌপথকেই বেছে নিয়েছেন। লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, আজ থেকে যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে, তাই তারা বাড়তি লঞ্চের প্রস্তুতি রেখেছেন।
উৎসবের আনন্দ প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ভোগান্তি মাথায় নিয়েই মানুষ ছুটছে দেশের বাড়ি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করায় এখন পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো