প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
ডারউইনে আগুন ঝরালেন হাসান মাহমুদ, ভেঙে দিলেন ১২ বছরের পুরোনো রেকর্ড
খেলা ডেস্ক ||
ঘরের মাঠের চেয়ে বিদেশের কন্ডিশন ও উইকেটে যেন আরও বেশি রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন বাংলাদেশ দলের তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ। নিখুঁত পেস, সুইং আর গতি দিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের কুপোকাত করা তাঁর নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে ডারউইনে প্রথম ম্যাচেই আগুন ঝরালেন ২৬ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি স্পিডস্টার।বৃহস্পতিবার ডারউইন টেস্টে ৫৫ রান খরচায় এককভাবে ৬টি উইকেট তুলে নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের পাশাপাশি ভেঙে দিয়েছেন ১২ বছরের পুরোনো এক ঐতিহাসিক রেকর্ড।ডারউইনে ৬ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং তো বটেই, নতুন এক ইতিহাস গড়েছেন হাসান। নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের তিন ফাইফারের (এক ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট) তিনটিই তিনি পেয়েছেন দেশের বাইরে। বিদেশের মাটিতে লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ফাইফারের একক কীর্তি এখন হাসান মাহমুদের দখলে।এর আগে ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ৬ টেস্টে ১২ ইনিংস বোলিং করে বিদেশের মাটিতে দুইবার ফাইফার পেয়ে রেকর্ডটির স্বত্বাধিকারী ছিলেন পেসার রবিউল ইসলাম। ১২ বছর ধরে টিকে থাকা সেই রেকর্ড ভেঙে হাসান এবার উঠে গেলেন সবার শীর্ষে।ডারউইন টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ধসিয়ে দেন হাসান। কখনো শর্ট বল, কখনো গুড লেংথের একের পর এক নিখুঁত ডেলিভারিতে অজি ব্যাটারদের পরাস্ত করেন তিনি। দুই ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেডের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটের পর প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, স্টিভ স্মিথ এবং নাথান লায়নকে সাজঘরে ফেরান এই বাংলাদেশি স্পিডস্টার।হাসানের এমন বোলিং নৈপুণ্য দেখে ইনিংস শেষে তাঁকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট।ঐতিহাসিক এই পারফরম্যান্সের পর উত্তেজিত হাসান মাহমুদ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে খেলতে পেরে আমি সত্যিই খুব উত্তেজিত ছিলাম। অস্ট্রেলিয়ার এমন কন্ডিশনে খেলার সুযোগ পাওয়াটাও দারুণ এক অভিজ্ঞতা। আমি কেবল নিজের বোলিং লাইন ও লেংথ ঠিক রেখে লাইন ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। নিজের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রেখে অধিনায়ক যা বলছিলেন, তা মাঠের মধ্যে বাস্তবায়ন করেছি।চলতি বছরের জুন মাসে ইংল্যান্ডের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ডিভিশন টু-তে কেন্টের জার্সিতে দ্যুতি ছড়িয়ে এসেছিলেন হাসান। ২ ম্যাচে ১২ উইকেট নেওয়ার পথে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে একাই নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। কাউন্টির সেই ছন্দ তিনি ধরে রাখেন অস্ট্রেলিয়াতেও। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ৪ উইকেট নেওয়ার পর এবার মূল টেস্টে পেলেন ঐতিহাসিক ৬ উইকেট।ম্যাচ শেষে গিলক্রিস্ট কাউন্টি ক্রিকেটের ফর্ম স্মরণ করিয়ে দিলে হাসান বলেন, হ্যাঁ, ইংল্যান্ডে কাউন্টি খেলার অভিজ্ঞতা আমার জন্য অসাধারণ ছিল। সেই অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়ার মাঠে আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আশা করছি সামনে কেন্টের হয়ে আবার খেলতে পারব।পরিসংখ্যান বলছে, নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪২টি উইকেটের মধ্যে ৩০টি উইকেটই হাসান নিয়েছেন বিদেশের মাটিতে। বাংলাদেশের পেসারদের তালিকায় বিদেশের মাটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী এখন তিনি। ৯ টেস্টের ১৫ ইনিংসে বোলিং করে হাসানের এই ৩০ উইকেট শিকার। এই তালিকার শীর্ষে থাকা তাসকিন আহমেদ ১৬ টেস্টের ২৯ ইনিংসে নিয়েছেন ৪৬ উইকেট। ২৮, ২৭ ও ২৬ উইকেট নিয়ে তালিকার তিন, চার ও পাঁচে রয়েছেন যথাক্রমে শাহাদাত হোসেন রাজীব, মাশরাফি বিন মর্তুজা ও ইবাদত হোসেন চৌধুরী।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো