প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
যোগ্য নেতৃত্বে দৃশ্যমান পরিবর্তন: শেখ আব্দুর রাজ্জাক আলিম মাদরাসায় ডিজিটাল ছোঁয়া
নাহিদ হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি ||
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘শেখ আব্দুর রাজ্জাক আলিম মাদরাসা’য় এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে শেখ নাজিম উদ্দিন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শুরু হয়েছে ব্যাপক সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ, ভৌত অবকাঠামো এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধায় এসেছে ব্যাপক দৃশ্যমান পরিবর্তন।দায়িত্ব নেওয়ার পর অতি অল্প সময়ের মধ্যে শেখ নাজিম উদ্দিনের দূরদর্শী নেতৃত্বে মাদরাসায় বেশ কিছু প্রগতিশীল ও শিক্ষাবান্ধব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ—সকল শিক্ষার্থীর জন্য ডিজিটাল স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন, দীর্ঘদিনের পুরোনো মাদরাসা মসজিদের সংস্কার ও টিন পরিবর্তন, পুরো সীমানা প্রাচীরে পবিত্র কোরআন-হাদিস ও মনীষীদের দিকনির্দেশনামূলক বাণী লিখন, সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে নাইট ভিশন সিসিটিভি ক্যামেরা ও রাতে আলোকসজ্জার জন্য হাই-ভোল্টেজ হ্যালোজেন লাইট স্থাপন।শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধাই নয়, মাদরাসা প্রাঙ্গণে পরিবেশ রক্ষায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় বয়োবৃদ্ধদের জন্য বিনামূল্যে পবিত্র কোরআন শিক্ষা কোর্স চালু, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত মেধা বিকাশে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং দীর্ঘ পাঁচ বছর পর পবিত্র ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।অতি সম্প্রতি মাদরাসা প্রাঙ্গণে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমধর্মী ও উৎসবমুখর ‘ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব’। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ রকম অনন্য ও আনন্দঘন আয়োজনের সংবাদ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যেমন—বিবিসি বাংলা, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, মাছরাঙা টেলিভিশন, বাংলা টিভি ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে প্রশংসার সাথে প্রচারিত হয়।পাশাপাশি নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রচারণায় মাইকিং, ফেস্টুন ও রঙিন লিফলেট বিতরণ, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের জন্য অভ্যন্তরীণ ক্যান্টিন চালু করা হয়েছে। শিক্ষাদানের গুণগত মান যাচাইয়ে প্রতিটি শ্রেণির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে নিয়মিত সাপ্তাহিক সমন্বয় সভা পরিচালনা করা হচ্ছে।এসব সমন্বিত উদ্যোগের প্রতিফলন ঘটেছে সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলেও। দীর্ঘ ১৫ বছরের টানা খরা কাটিয়ে শেখ আব্দুর রাজ্জাক আলিম মাদরাসা থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ (GPA-5) অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩ জন সাফল্যজনকভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে, যেখানে সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ।মাদরাসার অভিভাবক সদস্য হায়দার মৃধা অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, সভাপতি শেখ নাজিম উদ্দিন একজন প্রকৃত শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব। তিনি এডহক কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যে পুরো মাদরাসার পরিবেশ আমূল বদলে দিয়েছেন। আমরা তাঁকে সব সময় সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। এ ধরনের নিবেদিতপ্রাণ মানুষ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকলে যেকোনো দুর্গম পথ অতিক্রম করা সম্ভব।নিজের গৃহীত উদ্যোগ প্রসঙ্গে এডহক কমিটির সভাপতি শেখ নাজিম উদ্দিন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর যেসব ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তা আমার একার পক্ষে করা সম্ভব ছিল না। এর পেছনে স্থানীয় এলাকাবাসী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল। প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কল্যাণে যাঁর কাছেই গিয়েছি, কেউ আমাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেননি। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী, সকলের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামীতে এই মাদরাসাটিকে জেলা পর্যায়ে মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গতি ফেরাতে সৎ, যোগ্য ও শিক্ষানুরাগী নেতৃত্বের বিকল্প নেই। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার উন্নয়নে সম্পৃক্ত থাকা শেখ নাজিম উদ্দিনের মতো দক্ষ ব্যক্তিদের কারণে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো