প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
তিন মাসের নিস্তব্ধতা ভাঙছে সুন্দরবনে, কাল থেকেই খুলে যাচ্ছে বনের দুয়ার
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি ||
দীর্ঘ তিন মাসের কঠোর নিষেধাজ্ঞা শেষে অবশেষে কাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে পুনরায় দর্শনার্থী ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট সুন্দরবন। বন্যপ্রাণী ও জলজ প্রাণীর নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে বন বিভাগের নির্দেশে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই ম্যানগ্রোভ বনে সব ধরনের মানুষের যাতায়াত ও মৎস্য আহরণ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে সুন্দরবনসংলগ্ন খুলনার কয়রা, মহেশ্বরীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশীসহ বিস্তীর্ণ উপকূলীয় জনপদে ফিরে এসেছে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। লোকালয়ের নদী ঘাটগুলোতে তৈরি হয়েছে উৎসব মুখর পরিবেশ। জং ধরা নৌকা ধোয়ামোছা, নতুন কাঠ জোড়া দেওয়া এবং ছেঁড়া জাল সেলাইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাজারো জেলে। বনে যাত্রার উদ্দেশ্যে তেল, চাল-ডাল ও প্রয়োজনীয় রসদ নৌকায় তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।তবে দীর্ঘ সময় পর কাজের সুযোগ মেলায় জেলেদের মাঝে যতটা আনন্দ রয়েছে, তার চেয়েও বেশি ভর করেছে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা। স্থানীয়দের তথ্যমতে, নৌকা মেরামত, জাল কেনা, খাদ্য সামগ্রী মজুদ এবং সরকারি পাস-পারমিট সংগ্রহ করতেই প্রতিটি নৌকার বিপরীতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা প্রাথমিক খরচ হয়। গচ্ছিত সঞ্চয় না থাকায় এসব বনজীবীদের সিংহভাগকেই মহাজন বা দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। ফলে বনে নামার পূর্বেই মাথার ওপর চেপে বসছে ঋণের বোঝা।কয়রা এলাকার প্রবীণ জেলে মফিজুল ইসলাম জানান, গত তিন মাস ধরে রোজগার বন্ধ থাকায় তারা অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটিয়েছেন। এখন বনে ফেরার তাগিদ থাকলেও নদীতে কুমির, স্থলে বাঘ এবং বনের দুর্গম গহীনে দস্যু ও জলদস্যুদের আক্রমণের সার্বক্ষণিক আতঙ্ক কাজ করছে। এত দীর্ঘ সময় বন নির্জন থাকায় দস্যু দলগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা তাদের। ফলে বনে ঢোকার পথগুলোতে নিয়মিত কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের সাড়াশী টহল দাবি করেছেন তাঁরা।খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. সাজমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, প্রজনন মৌসুমে বনের ইকো-সিস্টেম রক্ষায় এই তিন মাসের সাময়িক বিরতি ইতিবাচক ফল দিয়েছে। মঙ্গলবার থেকে নিয়ম ও পাস-পারমিট মেনে সকল পেশাজীবী ও পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন। তবে বনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার কিংবা বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করার মতো নিষিদ্ধ তৎপরতা রুখতে বন বিভাগ কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো