প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রযুক্তির আড়ালে জালিয়াত চক্র: এআই ডিপফেক ও ভয়েস ক্লোনে দিশেহারা মানুষ
প্রযুক্তি ডেস্ক ||
প্রযুক্তির জোয়ারে বদলে গেছে ঐতিহ্যবাহী জালিয়াতির ধরণ। এক সময়ের ভুয়া লটারি, জাল নোট বা সাধারণ ফোনকলের প্রতারণা পেছনে ফেলে অপরাধীরা এখন ভর করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI), ভুয়া লোন অ্যাপ এবং স্মার্টফোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ওপর। চেনা মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করা (ভয়েস ক্লোনিং) থেকে শুরু করে খ্যাতনামা ব্যক্তির চেহারায় তৈরি ‘ডিপফেক’ ভিডিও বানিয়ে প্রতিনিয়ত কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় এক সংঘবদ্ধ চক্র।দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের টানা তিন মাসের এক মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেশে অন্তত ১০ ধরনের অভিনব প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের শিক্ষিত ও পেশাজীবী মানুষ পর্যন্ত প্রতিনিয়ত এই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। কুড়িগ্রামের চরের কৃষক আমজাদ হোসেন এআইভিত্তিক ব্যাংকারের ভুয়া ভিডিও দেখে লাভজনক বিনোয়োগের প্রলোভনে খুইয়েছেন জমা টাকা। অন্যদিকে নোয়াখালীর গৃহিণী ফাতেমা বেগম প্রবাসে থাকা ছেলের হুবহু কান্নার কণ্ঠ শুনে ১ লাখ টাকা পাঠালেও পরে জানতে পারেন সেটি ছিল মাত্র ৫ সেকেন্ডের একটি টিকটক ভিডিও থেকে ক্লোন করা ভুয়া ভয়েস কল।পরিসংখ্যান বলছে, প্রতারণার এই অর্থনৈতিক প্রভাব অত্যন্ত মারাত্মক। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে ৩০,১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন নিবন্ধিত হয়েছে—যা বিগত চার বছরে প্রায় ছয়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সিআইডি ও বিএফআইইউর যৌথ অভিযানে ইতিমধ্যে ১,২১২ কোটি টাকার বেশি আর্থিক লেনদেন জড়িত ৪৪৫টি ব্যাংক হিসাব ও ৫৫ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয় ও আইনি জটিলতার কারণে ৮৩ থেকে ৮৯ শতাংশ ভুক্তভোগী কখনো কোনো মামলা বা অভিযোগ করেন না। ফলে বাস্তব ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।তদন্তকারী সংস্থা বিটিআরসি, সিআইডি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, মূল অপরাধীরা অনেক সময় দেশের বাইরে অবস্থান করে বিদেশি সার্ভার ও ডোমেইন ব্যবহার করছে। তবে দেশে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে এজেন্ট নেটওয়ার্ক ও ভুয়া সিমে খোলা এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে।প্রতিবেদন মতে, বিটিআরসি, নির্বাচন কমিশন, ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে কোনো ‘রিয়েল-টাইম’ বা সরাসরি সমন্বিত জাতীয় ডেটাবেস না থাকায় অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে ব্যাংক ও টেলিকম খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক নিরাপত্তা কাঠামো জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো