প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাইকগাছার নার্সারিগুলোতে গুটি কলমের ব্যস্ততা, শ্রমসংকটে বাড়তি খরচের চাপ
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ||
উপযুক্ত মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার নার্সারিগুলোতে এখন গুটি কলম তৈরির কাজ জোরকদমে চলছে। বর্ষার পর্যাপ্ত বাতাসের আদ্রতা ও মাটিতে উপযুক্ত আর্দ্রতা থাকার কারণে বৈশাখ থেকে আষাঢ় বা পুরো বর্ষা মৌসুমজুড়ে গুটি কলমের ডালে দ্রুততম সময়ে শিকড় গাজায়। মাতৃগাছের শতভাগ গুণাগুণ বজায় রাখা, দ্রুত ফলন লাভ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে এই অঞ্চলের চাষিদের কাছে গুটি কলম অত্যন্ত জনপ্রিয়।উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক নার্সারি গড়ে উঠেছে, যার একটি বড় অংশ অবস্থান করছে গদাইপুর গ্রামে। বিশেষ করে পেয়ারা, জলপাই, ডালিম, লিচু, করমচা, মানসম্মত কাগজি লেবুর মতো নানা প্রজাতির ফলে এই গুটি কলম বেশি করা হচ্ছে। ৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সী গাছে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বাকল কেটে জৈব সারযুক্ত মাটি দিয়ে পলিথিনে পেঁচিয়ে গুটি বাঁধেন দক্ষ কারিগররা, যা এক মাসের মধ্যে চারা হিসেবে রোপণের উপযোগী হয়ে ওঠে।উপজেলার হিতামপুর গ্রামের রজনীগন্ধা নার্সারির স্বত্বাধিকারী সুকনাথ পাল জানান, চলতি মৌসুমে মিষ্টি জলপাই, মাল্টা ও লিচুসহ প্রায় ২৫ হাজার গুটি কলম প্রস্তুত করছেন। অন্যদিকে, গদাইপুর নার্সারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল সরদার তাঁর নার্সারিতে প্রায় ৪৫ হাজার গুটি কলম তৈরি করছেন। তবে মৌসুমভিত্তিক এই কাজে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় অতিরিক্ত মজুরি দিয়ে কাজ চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকেরা।হামিদ মোড়ল, মোক্তার ও সালামের মতো স্থানীয় অভিজ্ঞ কারিগররা প্রতি গুটি তৈরিতে ২ টাকা বা ১ টাকা ৭০ পয়সা দরে কাজ করছেন।পাইকগাছা উপজেলা নার্সারি মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার পাল জানান, পাইকগাছা থেকে উৎপাদিত এসব ফলদ ও বনজ চারা চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, রংপুর, সিলেট, বরিশালসহ সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু চারা পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি ও বাজারমূল্য আশানুরূপ না পাওয়ায় নার্সারি মালিকেরা কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন জানান, খুলনা জেলার মধ্যে চারা উৎপাদনে পাইকগাছার নার্সারি শিল্প শীর্ষে রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বনায়নের পাশাপাশি এই খাত স্থানীয় সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো