প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব: দেশে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা, মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনা জারি।
নাহিদ হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি ||
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশেও এর বড় ধরণের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বুধবার (৪ মার্চ ২০২৬) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে অনিশ্চয়তা:
মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয় যে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অনিশ্চয়তার কারণে দেশে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। তবে আসন্ন পবিত্র রমজানে জনদুর্ভোগ এড়াতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা:
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মন্ত্রণালয় থেকে সাধারণ নাগরিকদের জন্য বেশ কিছু জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে:
পরিবহন: জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আলোকসজ্জা: সব ধরণের অপ্রয়োজনীয় ও উৎসব-কেন্দ্রিক আলোকসজ্জা পরিহার করতে বলা হয়েছে।
অপচয় রোধ: বাসা-বাড়ি ও কর্মক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাচার রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি:
জ্বালানি পাচার এবং কালোবাজারে ডিজেল-পেট্রল বিক্রি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা ও খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
রেশনিং ও অগ্রাধিকার ভিত্তিক বণ্টন:
আমদানি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক রেশনিং বা অগ্রাধিকার ভিত্তিক বণ্টনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে চলতি সেচ মৌসুম এবং শিল্পকারখানায় জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সরকার বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীর ধৈর্য ও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো