প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুকুরে বিষ দিয়ে সাড়ে ১৪ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ||
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণ শহর এলাকায় একটি বাণিজ্যিক পুকুরে রাতের আঁধারে বিষাক্ত কেমিক্যাল প্রয়োগ করে আনুমানিক ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের মাছ মেরে লুট করে নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিমাই হলদার নামে এক ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে অভিযুক্ত করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. জাহিদুল ইসলাম সেলিম (৫৫)।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি থানায় এই অভিযোগ জমা দেন।থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ শহর এলাকার ৪ দশমিক ৯৮ একরের একটি বিশালাকার পুকুর ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ বছরের মেয়াদে লিজ নেন মো. সারিউল ইসলামসহ কয়েকজন। চুক্তি অনুযায়ী পুকুরটিতে মাছ চাষের সার্বিক দায়িত্ব ও পরিচালনা করছিলেন জাহিদুল ইসলাম সেলিম। লিজ নেওয়ার পর থেকে সেখানে তিনি রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছিলেন।অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিট থেকে ভোর ৫টার মধ্যে অভিযুক্ত নিমাই হলদারসহ সংঘবদ্ধ একটি চক্র পুকুরের পানিতে ক্ষতিকারক বিষ প্রয়োগ করে। বিষের প্রভাবে মাছগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়লে তারা কাপাজাল ফেলে চাষ করা প্রায় ১০০ মণ বড় মাছ ধরে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা।এছাড়া বিষাক্ত কেমিক্যালের বিষক্রিয়ায় পুকুরে থাকা আরও প্রায় ১৫ মণ পোনা মাছ মরে ভেসে ওঠে, যার ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। একই সঙ্গে আরও ১০ মণের মতো মাছ পানিতে ভেসে উঠলে আশপাশের লোকজন তা তুলে নিয়ে যায়, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এতে সব মিলিয়ে লিজগ্রহীতা ও চাষির সাড়ে ১৪ লাখ টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম সেলিম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে যান এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে লুটের বিষয়টি নিশ্চিত হন। অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তিনি আইনি প্রতিকারের জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ জানান।অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নিমাই হলদার মুঠোফোনে জানান, মূল পরিকল্পনাকারী এক ব্যক্তি তাঁদের মাছ ধরার শ্রমিক হিসেবে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে কার হয়ে তিনি কাজ করতে গিয়েছিলেন—সেই ব্যক্তির নাম বা ফোন নম্বর পরবর্তীতে জানাবেন বলে ফোন কেটে দেন এবং পরে আর কল ধরেননি।চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ লুটের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সত্যতা পাওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো