প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পদ্মার চরে সবুজের ক্যানভাস: পর্যটকদের টানছে চরভদ্রাসনের ‘হাজারীবিঘা বন’
সাদিয়া নূর পূর্ণ , বিশেষ প্রতিনিধি ||
বিশাল নদী পদ্মার বুকে জেগে ওঠা ধূ ধূ বালুচরের মাঝে হঠাৎ করেই যেন এক টুকরো নিবিড় শ্যামলিমায় ঘেরা বনাঞ্চল। চারিদিকে বয়ে চলা জলরাশি আর পাখির কোলাহলের মাঝে বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই রূপসী প্রকৃতি রূপ ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার নদীঘেঁষা চরাঞ্চলে অবস্থিত এই স্থানটির নাম ‘হাজারীবিঘা বন’।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড্রোন ও ক্যামেরাবন্দী হওয়া নান্দনিক ছবির মাধ্যমে সম্প্রতি এই বনটি পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শহরের যান্ত্রিক ব্যস্ততা ছেড়ে একবেলার জন্য প্রশান্তি খুঁজতে প্রকৃতির কাছাকাছি চলে যাচ্ছেন তরুণ ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড্রোন ও ক্যামেরাবন্দী হওয়া নান্দনিক ছবির মাধ্যমে সম্প্রতি এই বনটি পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শহরের যান্ত্রিক ব্যস্ততা ছেড়ে একবেলার জন্য প্রশান্তি খুঁজতে প্রকৃতির কাছাকাছি চলে যাচ্ছেন তরুণ ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা।কীভাবে যাবেন:রাজধানী ঢাকা, ফরিদপুর কিংবা আশেপাশের যেকোনো জেলা থেকে বেশ কয়েকটি উপায়ে সহজেই এই হাজারীবিঘা বনে পৌঁছানো সম্ভব:ঢাকা থেকে পথনির্দেশ: ঢাকার গাবতলী বা সায়েদাবাদ থেকে বাসে চেপে সরাসরি ফরিদপুর জেলা সদরে অথবা রাজবাড়ীর মোড়ে নামতে হবে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে এলে ভাঙ্গা অথবা সি-বোট ঘাটে নেমে সিএনজি বা স্থানীয় লোকাল গাড়িতে করে চরভদ্রাসন উপজেলা সদরে আসা যায়।ফরিদপুর শহর থেকে: ফরিদপুর সদরের বাসস্ট্যান্ড বা ট্রাফিকের মোড় থেকে সিএনজি, অটো অথবা মাহিন্দ্রাযোগে সহজেই চরভদ্রাসন উপজেলায় পৌঁছানো যায়।নদীপথ: চরভদ্রাসন উপজেলার হাজিগঞ্জ কিংবা ট্রলার ঘাট থেকে ট্রলার অথবা ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করে মূল পদ্মার চরে অবস্থিত হাজারীবিঘা বনে পৌঁছাতে হয়। ঘাটে গিয়ে দলগতভাবে রিজার্ভ ট্রলার নেওয়াই সুবিধাজনক।ভ্রমণে যা মাথায় রাখতে হবে ও সতর্কতা:চরাঞ্চলের এই বনটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এবং পুরোপুরি প্রাকৃতিক হওয়ায় কিছু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি—সুরক্ষা ব্যবস্থা: নদীপথে যাত্রার সময় ছোট-বড় সবাইকে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করতে হবে। চরাঞ্চলের নদী পারাপারে অসাবধানতা বিপদ ডেকে আনতে পারে।সময় ব্যবস্থাপনা: দুপুরের পর থেকে আলো কমতে শুরু করায় চরে পৌঁছানোর জন্য সকালের সময়টি নির্বাচন করা উত্তম। সন্ধ্যা নামার আগেই মূল ভূখণ্ডে বা চরের লোকালয়ে ফিরে আসতে হবে।খাবার ও পানীয়: বনাঞ্চল ও চরাঞ্চলে কোনো স্থায়ী রেস্তোরাঁ বা দোকানপাট নেই। তাই প্রয়োজনীয় পানীয় জল, শুকনো খাবার এবং ওরস্যালাইন সাথে রাখা আবশ্যক।বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল বা খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলে বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ বা নদীর পানি দূষিত করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।নিরাপত্তা ও স্থানীয়দের সম্মান: বনের ভেতরে বেশি গভীরে অপরিচিত পথে একা ঘুরে বেড়ানো বিপজ্জনক হতে পারে। একা না গিয়ে সবসময় দলবদ্ধ হয়ে ঘোরাফেরা করুন এবং স্থানীয় চরাঞ্চলবাসীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ বজায় রাখুন।চরাঞ্চলের বিশাল জলমহাল ও সবুজের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা ‘হাজারীবিঘা বন’ সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি সুনির্দিষ্ট তদারকি পেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদ ও ভ্রমণপ্রেমীরা।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো