প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিশেষ প্রতিনিধি , ঢাকা ||
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে আজ ভাষণ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় আজ বিকেলে তিনি বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রভাষা বাংলায় এই ঐতিহাসিক বক্তব্য রাখবেন। জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে এটিই তাঁর প্রথম ভাষণের মুহূর্ত।প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলো প্রাঞ্জলভাবে ফুটে উঠবে। এর পাশাপাশি নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাত, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করবেন তিনি।এবারের অধিবেশনে ভাষণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সেশনের আগেই বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।এর অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি সংকট ও সার্বিক উন্নয়ন সহায়তার নানা দিক নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বিখ্যাত ‘ওয়াল স্ট্রিট’-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বিশেষ বৈঠকের সূচি নির্ধারিত রয়েছে।অধিবেশনে বাংলাদেশের অন্যতম বড় এজেন্ডা হলো দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের সুরাহা। বিগত প্রায় আট বছর ধরে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত বিপুলসংখ্যক বাস্তবচ্যুত রোহিঙ্গাকে মানবিক আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট যেন বিশ্ববাসীর নজরের বাইরে না চলে যায় এবং এর দায় ও স্থায়ী সমাধানের মূল দায়িত্ব যে মিয়ানমারের ওপরই বর্তায়—তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আবারও স্মরণ করিয়ে দেবে ঢাকা।ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) প্রধান বারহাম সালেহের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের এক বিশেষ আলোচনাতেও তিনি যোগ দেবেন, যেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের রূপরেখা তুলে ধরা হবে।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সঙ্গে জিয়া পরিবারের একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। এর আগে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর মা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর প্রথমবার এই বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য রাখেন। আজ তারেক রহমানের এই ভাষণের মাধ্যমে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে।এদিকে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারেও প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত সময় পার করছেন। সফরকালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এছাড়া ভুটান, মালদ্বীপ ও হাইতির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁর পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সূচি অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো