প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সামনে দুর্গাপূজা, ভাঙাচোরা রাস্তা ও যানজটে বেহাল মুকসুদপুর বাজার
আরেফিন মুক্তা , মুকসুদপুর উপজেলা প্রতিনিধি ||
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা দুয়ারে কড়া নাড়ছে। জমে ওঠার কথা ছিল আশপাশের গ্রামের মানুষের কেনাকাটা ও হাটবাজার। অথচ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর পৌরসভার মূল বাজার এলাকা এখন নাগরিক ভোগান্তির এক চরম আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ভাঙাচোরা রাস্তা, তীব্র যানজট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার বিপর্যয়, সুপেয় পানির অভাব, অপ্রতুল সড়কবাতি আর ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট—সব মিলিয়ে দিশেহারা পৌরবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।সবচেয়ে শঙ্কাজনক অবস্থা বিরাজ করছে বাজারের অন্যতম ব্যস্ত ও ঐতিহ্যবাহী ‘মন্দির রোড’-এ। একটুখানি বৃষ্টিতেই নোংরা পানি জমে একাকার হয়ে যায় পুরো পথ। ইটের খোয়া ও ইট-সুরকি উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। খানাখন্দে ভরা এই রাস্তায় এখন হাঁটাই এক প্রকার যুদ্ধ।বাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বস্ত্র ব্যবসায়ী বলেন, পূজার বাজারে ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে আসবেন, নাকি জ্যাম আর কাদা এড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চিন্তা করবেন? তার ওপর বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর পানির সংকটে ব্যবসা চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।উৎসবের এই আবহে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের একটাই প্রশ্ন—পৌরবাসীর এই দীর্ঘদিনের দুর্দশা কি পৌর প্রশাসন ও নীতিনির্ধারকদের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে? নির্বাচনের সময় ভোট চাইতে দরজায় আসার আগে মানুষের এই দৈনন্দিন কান্না থামানো কি নীতিনির্ধারকদের দায়িত্ব নয়?আসন্ন দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে এবং বাজার এলাকার স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসকের জরুরি এবং সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে সর্বস্তরের মানুষ। তারা চান, অনতিবিলম্বে মন্দির রোড সাময়িক সংস্কার করা হোক, বাজারে পুলিশের বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হোক এবং পানির সরবরাহ ও সড়কবাতি সচল রাখতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো