প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
সুন্দরবনের সংবেদনশীল এলাকায় অবৈধ রিসোর্ট: দাকোপের ১৮টি ইকো কটেজের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
নতুন আলো ডেস্ক ||
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় সরকারি অনুমোদন ও ছাড়পত্র ছাড়া গড়ে ওঠা অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন স্থাপনার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। খুলনার দাকোপ উপজেলায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া পরিচালিত এমন ১৮টি রিসোর্ট ও ইকো কটেজের যাবতীয় বাণিজ্যিক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) সকালে খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এর আগে গত রোববার পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট ১৮টি রিসোর্ট ও কটেজ কর্তৃপক্ষের কাছে এই লিখিত নির্দেশিকা পাঠান। নির্দেশনায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনিক নোটিশ অমান্য করে কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি মামলা, প্রাঙ্গণের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পরিবেশ অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক তালিকায় থাকা দাকোপের ১৮টি রিসোর্ট হলো— অরণ্যছায়া, অরণ্যবাড়ী, কেওড়াবন, মায়াবন, গহন, দ্য ফরেস্ট রিট্রিট, নিকুঞ্জ ভ্যালি, লা সিলভা কটেজ, বনবিবি, সুন্দরী, ইরাবতী, বনমালী, গোলকানন, পিয়ালী, ম্যানগ্রোভ, জঙ্গলবাড়ী, বনবাস এবং বনলতা ইকো কটেজ।দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের অতি সংবেদনশীল ঢাংমারী, কৈলাসগঞ্জ ও বাণিশান্তা এলাকা জুড়ে এসব বাণিজ্যিক ইকো কটেজ গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে ছাড়পত্র না থাকায় ১০টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে তারা আবেদন জমা দেয়, কিন্তু বিধি অনুযায়ী সঠিক কাগজপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের আবেদন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়। পাশাপাশি নতুন নির্মিত বাকি ৮টি রিসোর্টকে স্থান স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা মানেনি। ফলে সবকটি প্রতিষ্ঠানের সেবা বন্ধের পাশাপাশি ১৫ দিনের মধ্যে সকল অবৈধ অবকাঠামো অপসারণের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে 'রিসোর্ট ব্যবসার চাপে সুন্দরবন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর সুন্দরবনের সংরক্ষিত ঢাংমারী খালে ডলফিন অভয়ারণ্যে অননুমোদিত ট্রলার চলাচল ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। পরবর্তীতে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে এর জবাব চাওয়া হলে দ্রুততার সাথে পরিবেশ অধিদপ্তর এই আইনি অভিযান বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো