প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
মাচায় বাহারি রঙের তরমুজ চাষে সফল মাগুরার হাসানুর
নাহিদ হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি ||
মাচাজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে হলুদ ও সবুজ রঙের দৃষ্টিনন্দন তরমুজ। সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দেওয়া বাহারি ফলের এমন ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে পথচারীদের। কেউ থমকে দাঁড়িয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, আবার কেউ মুঠোফোনে ফ্রেমবন্দী করছেন এই নতুন দৃশ্য। অসময়ে ভিন্ন জাতের তরমুজ ফলিয়ে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় এমনই ব্যাপক কৌতূহল ও ব্যাপক সাড়া তৈরি করেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. হাসানুর রহমান।উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ভাবনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাসানুর মাত্র পাঁচ শতাংশ জমিতে কৌতূহল ও শখের বশে চাষ করেছেন ‘ব্ল্যাকবেরি’ ও ‘ইয়েলো মেলন’ জাতের মাচা তরমুজ। এর মধ্যে উজ্জ্বল হলুদ রঙের ‘ইয়েলো মেলন’ আলাদাভাবে নজর কাড়ছে সবার। শখের এই চাষ এখন পুরো এলাকা জুড়ে আলোচনার প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে।উদ্যোক্তা হাসানুর জানান, তরমুজ চাষের উদ্দেশ্যে মাগুরা জেলা শহর থেকে মাত্র ১ হাজার ৩০০ টাকায় ২০ গ্রাম বীজ কিনে আনেন তিনি। এরপর নিজস্ব পরিচর্যায় বীজ থেকে চারা তৈরি করে গত আগস্টে জমিতে রোপণ করেন। চারা রোপণের দেড় মাসের মধ্যেই গাছে ঝুলতে শুরু করে কাঙ্ক্ষিত ফল।প্রচলিত জমিতে ছড়িয়ে রাখার পদ্ধতির বদলে বাঁশের খুঁটি ও নাইলনের সুতা ব্যবহার করে সুনির্দিষ্ট মাচা তৈরি করেছেন তিনি। সেই মাচায় ছড়িয়ে পড়া লতাগুলোর ফাঁকে ফাঁকে এখন শোভা পাচ্ছে নজরকাড়া ফল।ব্যতিক্রমী এই তরমুজের ক্ষেত দেখতে প্রতিদিনই বিনোদপুর ও আশেপাশের এলাকা থেকে আসছেন স্থানীয় উৎসুক মানুষ। স্থানীয় কৃষক বাবলু ও জমির হোসেন জানান, এ অঞ্চলে এভাবে আগে কখনও তরমুজ চাষ দেখা যায়নি। অল্প জমিতে হাসানুরের এই সফল উদ্যোগ দেখে অন্যান্য কৃষকরাও ভবিষ্যতে এটি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। উপযুক্ত দামে বাজারজাত করা গেলে এ অঞ্চলে তরমুজ চাষের পরিধি আরও বাড়বে বলে তাদের বিশ্বাস।এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাত জাহান শিলু জানান, সাধারণত এই অঞ্চলে কৃষকেরা তরমুজ চাষে অভ্যস্ত নন। তবে তরুণ উদ্যোক্তা হাসানুর রহমানের এই ব্যতিক্রমী ও প্রগতিশীল উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাঁকে সব ধরনের প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর এই সাফল্য দেখে মাগুরার অন্যান্য কৃষকরাও তরমুজ চাষে উৎসাহিত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো