প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
মুকসুদপুর সরকারি কলেজে এইচএসসিতে বড় বিপর্যয়, পাসের হার মাত্র ২০.০৪%
সামুয়েল, মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি ||
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর সরকারি কলেজে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাসের হার মাত্র ২০ দশমিক ০৪ শতাংশে। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৮০ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। এমন নৈরাশাজনক ফলাফলের পেছনে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের চরম অনুপস্থিতি, পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশের ঘাটতি এবং অনিয়মিত ও আগের বছরের অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের পুনর্ফেল করাকে মূল কারণ হিসেবে দেখছে কলেজ প্রশাসন।কলেজের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মুকসুদপুর সরকারি কলেজ থেকে বিভিন্ন বিভাগে মোট ১ হাজার ৪০২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হতে পেরেছেন মাত্র ২৮১ জন শিক্ষার্থী। বিপরীতে ফেল করেছেন ১ হাজার ১২১ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট অকৃতকার্যদের মধ্যে এক বিষয়ে ফেল (F1) করেছেন ৪৯২ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল (F2) করেছেন ৩১১ জন। এসব পরীক্ষার্থীর এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।ফলাফল সম্পর্কে মুকসুদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ লুৎফর রহমান দৈনিক নতুন আলো-কে জানান, কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ চিহ্নিত করা গেছে—শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিতি, শিক্ষার অনুকূল পরিবেশের অভাব এবং পূর্ববর্তী বছরে অকৃতকার্যদের ফলাফলের নেতিবাচক প্রভাব।প্রফেসর মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, গত বছর যেসব শিক্ষার্থী এইচএসসিতে অকৃতকার্য হয়েছিলেন, তাঁদের বড় একটি অংশ এবারও ভালো করতে পারেননি। পুনরাবৃত্তি করা এসব পরীক্ষার্থীর সার্বিক ফল কলেজের সামগ্রিক পাসের হারে বড় ধরনের ধস নামিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির হার আশঙ্কাজনকভাবে কম। শ্রেণিকাজে নিয়মিত অংশ না নেওয়ার ফলে পাঠ্যবইয়ের মূল বিষয়ের ওপর তাঁদের স্পষ্ট ধারণা গড়ে উঠছে না। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা ও নজরদারি জোরদার করা জরুরি।তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানসম্মত শিক্ষার জন্য যে অনুকূল ও নিবিড় একাডেমি পরিবেশ প্রয়োজন, কলেজে তারও ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগী করা এবং নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ উন্নত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।এদিকে শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু ফল প্রকাশের পর উদ্বেগ প্রকাশ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করার মতো ঘটনা নিশ্চিতভাবেই শিক্ষার গুণগত মানের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করায়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো ও পাঠদানের মান বৃদ্ধি, নিয়মিত উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ও বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষক-অভিভাবক সমন্বয় বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো