প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
মঠবাড়িয়ায় ভুয়া এতিমখানা ও জমি জালিয়াতির অভিযোগে ফের আলোচনায় বরখাস্ত ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক
তরিকুল ইসলাম অভি, পিরোজপুর প্রতিনিধি ||
এতিম শিশুদের নামে আসা সরকারি অনুদান আত্মসাৎ, ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ লোপাট এবং নিরীহ মানুষের জমি লিখে নেওয়ার প্রলোভনে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একের পর এক সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ বি এম ফারুক হাসানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির বিস্তার ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে প্রথমবার চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন ফারুক হাসান। এরপর সীমানা জটিলতা ও আদালতসংক্রান্ত মামলার অজুহাতে নির্বাচন আটকে রেখে দীর্ঘ দিন ধরে তিনি এ পদে বহাল ছিলেন। আর এই দীর্ঘ মেয়াদেই তাঁর বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়।তাঁর বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি উঠেছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারি অনুদানকেন্দ্রিক। সরকারি নথিপত্রে ‘ফারুক হাসান শিশু সদন ও হেফজখানা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে ২৪ জন এতিম শিশুর অনুকূলে নিয়মিত সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হতো। তবে সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে দেখা যায়, বাস্তবপ্রান্তে এমন কোনো হেফজখানা বা এতিমখানার অস্তিত্বই নেই। সম্পূর্ণ ভূতুড়ে এই প্রতিষ্ঠানের নামে বছরের পর বছর সরকারি অর্থ পকেটস্থ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে টাইলস বসানোর প্রকল্প পাস হলেও বাস্তবে পরিষদে কোনো কাজই করা হয়নি। সম্পূর্ণ ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে ফারাক হাসান সেই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে জানিয়েছেন ইউপি সদস্যরা। শুধু সরকারি টাকা লোপাটই নয়, সাধারণ মানুষকে জমি দেওয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং সেটেলমেন্ট অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে জাল পর্চা বানিয়ে জমি দখলের মারাত্মক অভিযোগও রয়েছে তাঁর নামে।গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে চেয়ারম্যান এ বি এম ফারুক হাসানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, ‘চেয়ারম্যান ফারুক হাসান ও তাঁর ক্যাডার বাহিনী আমাদের বসতবাড়ির কয়েক বিঘা জমির জাল পর্চা বানিয়ে আত্মসাৎ করেছে। বিগত সরকারের ১৭ বছরে তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তাঁর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলা-মামলার শিকার হতে হতো।’মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ছবির আকন ও মামুন মোর্শেদ সরোয়ার জানান, পরিষদ ভবন ডেকোরেশনের নামে টাইলসের অর্থ আত্মসাৎ এবং জমি জালিয়াতির অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে বরখাস্ত হওয়া এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।বরখাস্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এ বি এম ফারুক হাসান মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি স্বীকার করলেও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আতাউর রাব্বী জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান এ বি এম ফারুক হাসানকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।এদিকে, ভূতুড়ে এতিমখানার টাকা উদ্ধার, ভুয়া উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ হিসাবভুক্ত করা এবং জালিয়াতির শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের জমি ফিরিয়ে দিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো