প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
এই বর্ষায় চিঠি দিও
নাহিদ হোসেন ||
এই বর্ষায় চিঠি দিও, নবনীতা।তোমার কাঁপা হাতের অক্ষরে,একটু অভিমান, একটুখানি মায়া,আর বুকের গভীরে জমে থাকাকিছু না-বলা কথার ভাঁজ খুলেযদি পাঠিয়ে দাও আমার ঠিকানায়—আমি এক নিঃসঙ্গ বিকেলেজানালার পাশে বসে চিঠিটা খুলব।বাইরে তখন বৃষ্টি নামবে,আর প্রতিটি শব্দে খুঁজে নেবতোমার আঙুলের কোমল স্পর্শ।জানো নবনীতা,আজকাল বৃষ্টি হলেই তোমার কথা মনে পড়ে।জানালার কাচ বেয়ে নেমে আসা জলরেখাগুলোকেমন যেন তোমার স্মৃতির মতো—নীরবে ঝরে পড়ে,অথচ ভেতরটা ভিজিয়ে দিয়ে যায়।ভেবেছিলাম, কিছু অনুভূতিকখনো শব্দ হয়ে ওঠে না।কিছু ভালোবাসা থেকে যায়চোখের পাতায়, দীর্ঘশ্বাসে,কিংবা গভীর রাতে বালিশের পাশে।অথচ এই বর্ষা আমাকে শিখিয়েছে—না-বলা কথারও শব্দ থাকে,নীরবতারও নিজস্ব ভাষা আছে।শুধু শোনার মতো একটি হৃদয় চাই।আজ এই ভেজা আকাশটাকেকেন জানি তোমার মতো মনে হয়—একটু ধূসর, ভীষণ কোমল,অথচ কী গভীর এক মায়ায় ঘেরা!তোমার নীরবতা,তোমার আড়াল করে রাখা অভিমান,আর বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখাসেই অপ্রকাশিত ভালোবাসাগুলো—আজ বৃষ্টির শব্দেকেমন যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।তাই বলছি, নবনীতা—এই বর্ষায় চিঠি দিও।খুব বেশি কিছু লিখতে হবে না।শুধু লিখো—কেমন আছো?তারপর হয়তো দু-একটি সাধারণ কথা,কিছু বৃষ্টির গল্প,আর শেষে লিখে দিও—ভালো থেকো।বিশ্বাস করো,তোমার ওই দুটো শব্দের আড়ালেওআমি অনেক না-বলা কথা পড়ে নেব।হয়তো চিঠির শেষে তোমার নাম থাকবে,কিন্তু আমার সমস্ত অপেক্ষা জুড়েথেকে যাবে শুধু তুমি।নবনীতা,এই বর্ষায় একটিবার চিঠি দিও—কারণ পৃথিবীর সব বৃষ্টিমনের তৃষ্ণা মেটাতে পারে না।কিছু অপেক্ষা আজও বেঁচে থাকেএকটি চিঠির আশায়,আর কিছু মানুষ—সারাজীবন অপেক্ষা করে যায়প্রিয় মানুষের কয়েকটি শব্দের জন্য।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো