প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬
ভারতে গ্রেপ্তার ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল কারাগারে
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে আদালতে নেওয়ার সময় ফয়সাল দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাদের আটক করে। অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।রোববার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা বিচার বিভাগীয় আদালতে তাঁদের হাজির করা হলে বিচারক ১২ দিনের কারা হেফাজতের নির্দেশ দেন। আগামী ২ এপ্রিল তাঁদের পুনরায় আদালতে তোলা হবে। আদালতে নেওয়ার আগে বিধাননগর পুলিশ তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে।আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল করিম বলেন, “আমি এই কাজ করিনি। এসবের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।” তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।অন্যদিকে, এসটিএফের দাবি—জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকায় শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলি করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে ফয়সাল করিম ও আলমগীর হোসেন ছিলেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তাঁদের মধ্যে ১২ জন ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন।এসটিএফ সূত্র জানায়, ফয়সাল ও আলমগীর বনগাঁ এলাকায় আত্মগোপনে থেকে বাংলাদেশে ফেরার সুযোগ খুঁজছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়। এছাড়া, তাঁদের পালাতে সহায়তাকারী আরও একজনকেও ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ভারতে গ্রেপ্তার এই আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো