প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬
কটিয়াদীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: জনভোগান্তি চরমে
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা দিয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে তেল সংগ্রহের প্রবণতায় গত দুদিন ধরে উপজেলার পাম্প ও খুচরা দোকানগুলোতে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রী ও চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে কটিয়াদী সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকার মেসার্স খান ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশন-এ সরেজমিনে দেখা যায়, পাম্পমুখী যানবাহনের সারি মূল সড়কে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, পাম্পগুলোতে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে বা খুচরা দোকানে সহজেই তেল পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেখানে প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ। সাধারণ মানুষের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।পাকুন্দিয়া থেকে আসা এক রোগী বহনকারী গাড়ির চালক আক্ষেপ করে বলেন, পাম্প এলাকায় আলাদা লেন না থাকায় জরুরি রোগী নিয়ে আধা ঘণ্টার বেশি যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না থাকলেও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে এই চাপের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, কটিয়াদী থানার পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সাময়িক যানজট তৈরি হয়েছিল, যা বর্তমানে পুলিশের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক রয়েছে।উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার প্রভাবে জ্বালানি সংকটের গুজব ছড়ালেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল না কেনার জন্য জনগণকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।জনভোগান্তি নিরসনে কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে কঠোর বাজার মনিটরিং শুরু করেছে। ফিলিং স্টেশন ও খুচরা ব্যবসায়ীরা যাতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো