প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬
পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! বহু হতাহতের শঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অর্ধশতাধিক যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। ঘটনাটি বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল প্রায় সোয়া ৫টার দিকে ঘটে, যা মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে।প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সৌহার্দ্য পরিবহন-এর ঢাকাগামী বাসটি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীসহ ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। চালক নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার আগেই বাসটি সরাসরি নদীতে পড়ে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ডুবে যায়।দৌলতদিয়া ঘাট এলাকাটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত নদী পারাপার কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে সবসময়ই যাত্রী ও যানবাহনের চাপ থাকে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে এই দুর্ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন-এর দৌলতদিয়া ঘাটের এজিএম সালাহউদ্দিন জানান, বাসটিতে প্রায় ৫০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই কয়েকজন যাত্রী প্রাণ বাঁচাতে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন—প্রাথমিকভাবে ৪ থেকে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বাকিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে এবং বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি ঢাকার সদর দপ্তর থেকে আরও ডুবুরি ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান পাওয়া যায়।স্থানীয় প্রশাসন, নৌপুলিশ এবং ঘাট কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয় করছে। নদীর স্রোত ও সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় উদ্ধার কাজে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরিঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো