প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬
জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চয়তার মাঝে ৩০ হাজার টনের নতুন চালান দেশে
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
জ্বালানি সরবরাহে বৈশ্বিক অস্থিরতার চাপের মধ্যেই নতুন একটি চালান দেশে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের জাহাজটি বাংলাদেশে আসে। চীনের প্রতিষ্ঠান ইউনিপেকের সঙ্গে চুক্তির আওতায় এই জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনিশ্চয়তার এই সময়ে নতুন চালানটি সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, আমদানি করা ডিজেল মূলত পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যবহৃত হবে। আর জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ বিলম্বের কারণে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে।চলতি মাসে মোট ১৭টি জাহাজে জ্বালানি আসার কথা থাকলেও এর আগে এসেছে আটটি জাহাজ। আজকের চালানসহ মোট নয়টি জাহাজ পৌঁছালেও বাকি ছয়টির সূচি এখনও অনিশ্চিত।বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জাহাজ আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জাহাজটি সকালে দেশে পৌঁছেছে। বর্তমানে বড় কোনো জ্বালানি সংকট নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।বিপিসি সাধারণত সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করে থাকে। প্রতিবছর দেশে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল দেশে এনে পরিশোধন করা হয়, আর বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়াসহ আটটি দেশ থেকে আমদানি করা হয়।দেশে জ্বালানি ব্যবহারে ডিজেলের ওপর নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি। কৃষি সেচ, সড়ক পরিবহন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ডিজেল প্রধান ভূমিকা রাখে। ফলে ডিজেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হলে তার প্রভাব দ্রুত পুরো অর্থনীতিতে পড়ে।বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ দিনের ডিজেল এবং ২৫ দিনের জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসে সমুদ্রপথে ১৪টি জাহাজ এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে তিনটি পার্সেলে মোট ৩ লাখ টন ডিজেল, ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৫ হাজার টন অকটেন এবং ৫০ হাজার টন ফার্নেস তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল এবং পাইপলাইনে ২০ হাজার টন সরবরাহ।এদিকে মে মাসে ১৭টি জাহাজে সাড়ে তিন লাখ টন ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি আমদানির সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সম্মতি পাওয়া যায়নি।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো