প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬
একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী মাহবুবা রহমানের দাফন সম্পন্ন
বিনোদন ডেস্ক ||
একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী মাহবুবা রহমান–এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে রাজধানীর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান–এ। আজ শুক্রবার বাদ জুমা মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদ–এ তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ বাসায় নেওয়া হলে স্বজনরা শেষবারের মতো তাঁকে বিদায় জানান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেয়ে সংগীতশিল্পী রুমানা ইসলাম।এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতাল–এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই গুণী শিল্পী। তাঁর মেয়ে জানান, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। প্রায় এক বছর ধরে কথাবার্তা বলতেও পারছিলেন না। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রথম সবাক চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ–এ মনের বনে দোলা লাগে গান পরিবেশনের মাধ্যমে পরিচিতি পান মাহবুবা রহমান। পরে ফতেহ লোহানী পরিচালিত আসিয়া সিনেমায় ‘আমার গলার হার খুলে নে ওগো ললিতে গান গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর কণ্ঠে আমার যদি থাকত পাখির ডানা, আমার না বলা কথা, সোনালি এই ধানের খেতে, ‘আগে জানি না রে দয়াল, তুমি দাও দেখা দরদি, আমার বন্ধু বিনোদিয়া, আজকে আমার মালঞ্চে ফুল ফোটে নাই’সহ অসংখ্য গান শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নেয়।তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র জগতের প্রারম্ভিক সময়ের বহু চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেন, যার মধ্যে রয়েছে জাগো হুয়া সাভেরা, আসিয়া, রাজা সন্ন্যাসী, এ দেশ তোমার আমার, যে নদী মরুপথে, কখনো আসেনি, সূর্যস্নান, সোনার কাজল, নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও সাত ভাই চম্পা।১৯৩৫ সালের ৩ মার্চ চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করা মাহবুবা রহমানের প্রকৃত নাম ছিল নিভা রানী রায়। শৈশবে বাবার সঙ্গে ঢাকায় এসে সংগীতে হাতেখড়ি হয় তাঁর। তিনি সুধীরলাল চক্রবর্তী, পিসি গোমেজ, মোমতাজ আলী খান, কাদের জামেরী এবং ইউসুফ কোরেশী–এর কাছে সংগীত শিক্ষা নেন। রাগপ্রধান আধুনিক গান, নজরুলসংগীত, পল্লিগীতি, ভজন–কীর্তন ও হামদ–নাতে তাঁর সমান দক্ষতা ছিল, তবে লোকসংগীত তাঁকে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা এনে দেয়।১৯৪৬ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিও ঢাকা কেন্দ্র থেকে প্রথম গান পরিবেশন করেন তিনি, তখন তাঁর নাম ছিল নিভা রানী দাস। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি প্রথমে আবুল হাসনাতকে বিয়ে করেন, তাঁদের সংসারে দুই ছেলে—মারুফ ও বাবন হাসনাত। পরে ১৯৫৯ সালে তিনি বিয়ে করেন খান আতাউর রহমান–কে। এই সংসারে তাঁর তিন সন্তান—রাহিলা খান, রুমানা ইসলাম ও খান ইমানুর রহমান।পরবর্তী জীবনে দীর্ঘ সময় আড়ালেই কাটিয়েছেন এই শিল্পী। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো