প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬
ওমরাহযাত্রীদের ফেরাতে অতিরিক্ত ফ্লাইটের দাবি; বিপাকে ৪ হাজার বাংলাদেশি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও ফ্লাইট বাতিলের কারণে তাঁরা সৌদি আরবে আটকে আছেন। বিশেষ করে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত হয়ে ট্রানজিটে যাওয়া যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী এখন মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন হোটেলে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে, আর যা-ও পাওয়া যাচ্ছে তার দাম আকাশচুম্বী। সাধারণ সময়ের চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি দামে একমুখী টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায়।আটকে পড়া যাত্রীদের একজন সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান তাঁর কষ্টের কথা। ২৩ মার্চ তাঁর ফিরতি ফ্লাইট ছিল, কিন্তু বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারেন সেটি বাতিল হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাস ভাড়ার টাকাও ছিল না, ধার করে ভাড়া দিতে হয়েছে। এখনো অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে দেশে ফেরার টিকিট কিনতে পারিনি।’হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর তথ্যমতে, আটকে পড়া যাত্রীর সংখ্যা ৪ থেকে ৫ হাজার হতে পারে। হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘আমরা ৭ মার্চ বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।’এদিকে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের প্রধান বিমানবন্দর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। গত এক মাসে এখান থেকে প্রায় ৭৯৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ইরান, ইরাক, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আকাশসীমা বন্ধ রাখায় কুয়েত এয়ারওয়েজ, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস ও গালফ এয়ারের মতো বড় এয়ারলাইনসগুলোর শিডিউলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থা এখনো অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩৫টি ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে।বিদেশে আটকে পড়া এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও ধর্মপ্রাণ মানুষদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো