প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬
গণভোট ও গুরুত্বপূর্ণ কমিশন গঠন: সংসদীয় কমিটিতে সরকার-বিরোধীদের মতপার্থক্য তুঙ্গে
বিশেষ প্রতিনিধি , ঢাকা ||
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশ যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিল জাতীয় সংসদে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশেষ কমিটি। তবে ‘গণভোট’ সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি বিল আকারে উত্থাপন না করার সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া পুলিশ কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনসহ ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের সংশোধনী নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (আপত্তি) দিয়েছেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা।রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির দীর্ঘ তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানা গেছে। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।সংবিধানে গণভোটের বিধান রাখা না রাখা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে কমিটির সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “গণভোটের সাথে গোটা জাতি জড়িত। ওনারা এটি বাতিল করার কথা বলছেন, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে—এটাই আমাদের মূল দাবি।”তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ভিন্ন মত পোষণ করে বলেন, “গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে। এটার অধীনে সামনে আর কোনো গণভোট হবে না। তাই এটাকে বিল আকারে এনে আইন বানানোর কোনো অর্থ নেই।”বৈঠক শেষে রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, সরকার মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগের মতো ‘দলীয়করণের’ লাইনে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপতি নিয়োগের বাছাই কমিটি রহিত করে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায় সরকার। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা খর্ব করার বিষয়েও আমরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছি।”বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১০-১৫টি বিষয়ে কিছু সংশোধনীসহ একমত হয়েছে কমিটি। যেসব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি, সেগুলো নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা ও ভোটাভুটি হবে। আগামী ২ এপ্রিল কমিটি সংসদে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করবে।বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং বিশেষ আমন্ত্রণে মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো