প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬
সংবিধান, গণভোট ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্ক
বিশেষ প্রতিনিধি , ঢাকা ||
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম সংবিধান, গণভোট এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নানা প্রশ্ন ও মন্তব্য তুলে ধরেছেন।সোমবার সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে বর্তমান বাস্তবতায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির দেশে থাকার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর ভাষায়, “সংবিধান মানতে হলে প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে থাকার কথা নয়, দেশের বাইরে থাকার কথা। একইভাবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও দেশে থাকার কথা ছিল না।”শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এখন কথা বলতে গেলেও বৈষম্যের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তিনি শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার প্রসঙ্গে সরকারের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, এই বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি তিনি জানতে পারেননি।গণভোট ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংবিধান নিয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা হলেও বাস্তবে তা নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর দাবি, অতীতে এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে যখন সংবিধান থাকলেও তা মানুষের অধিকার রক্ষা করতে পারেনি। তিনি ১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেটির যথাযথ প্রয়োগ হলে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হতে পারত।শিক্ষার্থী আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব শিক্ষার্থীদের নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে, তাদের বিষয়ে সরকারদলীয় নেতাদের অবস্থানেও দ্বৈততা লক্ষ্য করা গেছে। একদিকে সহানুভূতি প্রকাশ, অন্যদিকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা অস্বীকার—এই দুই ধরনের বক্তব্য উঠে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, অতীতে এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে বড় রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তার মধ্যেও সংবিধান কার্যকরভাবে সুরক্ষা দিতে পারেনি। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিবকে ঘিরে থাকা এক ঘটনার সময়ও সংবিধানের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।গণভোট নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, তাদের উদ্বেগের মূল কারণ হলো রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে তাদের দলকে বিশেষভাবে টার্গেট করা হয়েছিল এবং সে কারণেই এখনো তাদের প্রতি ভীতি কাজ করে।শফিকুল ইসলাম আরও দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কিছু বক্তব্যে রাজনৈতিক মিত্রদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে, কিন্তু সে বিষয়ে সংসদে তেমন কোনো প্রতিবাদ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, জনগণ প্রতারিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও যদি গণভোট বা জুলাই সনদ নিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়, তাহলে তার পরিণতি গুরুতর হতে পারে।সরকারি দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণভোটের বিরোধিতা মানে অতীতের দমন-পীড়নের পরিস্থিতিকে সমর্থন করা। তাঁর দাবি, দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ গণভোটের পক্ষে মত দিয়েছে এবং তা অস্বীকার করা হলে জনগণ আবারও সক্রিয় হয়ে উঠবে।এদিকে একই আলোচনায় সরকারি দলের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল বলেন, রমজান ও ঈদ মৌসুমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের একটি বড় সাফল্য। তাঁর মতে, গত ৫৫ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে বাজার স্থিতিশীল ছিল। তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও সরকার দেশে জ্বালানির দাম বাড়ায়নি।সরকারি দলের আরেক সদস্য শহীদুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উন্নয়নের যে দাবি করা হয়, তা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি। তাঁর অভিযোগ, গ্রামাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি।অন্যদিকে এনসিপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ জানান, তারা শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা নেবেন না। তবে নির্বাচনী এলাকায় সংসদ সদস্যদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কার্যালয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো