প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
দেড় মাস ধরে রেলের তেল সরবরাহ বন্ধ: উত্তরাঞ্চলে তীব্র জ্বালানি সংকট, সেচ নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা
নতুন আলো ডেস্ক ||
খুলনার দৌলতপুর ডিপো থেকে রাজশাহী ও নাটোর রেলওয়ের প্রধান ডিপোতে দীর্ঘ দেড় মাস ধরে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর চার জেলা—রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁয় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বোরো মৌসুমের এই ভরা সময়ে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো কৃষক।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তিন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির ইনচার্জরা জানিয়েছেন, হেড অফিসের সিদ্ধান্তে গত দেড় মাস ধরে কোনো তেল পাঠানো হচ্ছে না। সর্বশেষ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে এবং ২০ ফেব্রুয়ারি নাটোরে তেলের পার্সেল পাঠানো হয়েছিল।সাধারণত প্রতি সপ্তাহে ৩০টি ওয়াগনে ১০ থেকে ১৫ লাখ লিটার ডিজেল এই অঞ্চলে পাঠানো হতো। ডিলাররা সরাসরি রেলের ওয়াগন থেকে তেল সংগ্রহ করতেন। কিন্তু সরবরাহ বন্ধ থাকায় এখন তাদের ৩ গুণ বাড়তি খরচে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে সড়কপথে তেল আনতে হচ্ছে।চলনবিল-অধ্যুষিত নাটোরে বোরো আবাদে সেচ বিপর্যয়ের চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৫৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের বিপরীতে ২ কোটি ৪৬ লাখ লিটারের বেশি ডিজেল প্রয়োজন।নলডাঙ্গার ধানচাষি আসাদুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যখন সেচ দরকার, তখনই তেলের অভাব। সময়মতো পানি দিতে না পারলে আমাদের পুরো আবাদ নষ্ট হয়ে যাবে। ডিলার ও এজেন্টদের ভোগান্তিতেল সংকটের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন কোম্পানির শতাধিক ডিলার ও এজেন্ট চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেক জায়গায় তেলের সরবরাহ না থাকায় ডিলাররা দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।মেসার্স নাসির উদ্দীন এজেন্সির স্বত্বাধিকারী সাইদুল ইসলাম জানান, আমরা ঠিকমতো তেল পাচ্ছি না। কৃষকরা এসে ফিরে যাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এছাড়া সড়কপথে লরিতে করে তেল আনতে গিয়ে পরিবহন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।উত্তরাঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রেলের ওয়াগনে করে ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। অন্যথায় বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাজারে চালের দামের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো