প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
তেহরানের শতবর্ষী চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা: ধ্বংসস্তূপে পাস্তুর ইনস্টিটিউট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত দেশটির ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরান’-এ এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানটি এই হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, শতাব্দী প্রাচীন এই গবেষণা কেন্দ্রটির একটি বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ল্যাবরেটরি এবং গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা দেশটির ভ্যাকসিন উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্য গবেষণায় বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।১৯২০ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুরের নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার। এটি কেবল ইরানেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নত মানের টিকা (ভ্যাকসিন) উৎপাদনের জন্য পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক করোনা মহামারি পর্যন্ত এই কেন্দ্রটি বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছিল।মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে এই হামলার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা একে পরিকল্পিত নাশকতা হিসেবে দেখছেন। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, একটি বেসামরিক চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রে এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, চিকিৎসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা কেবল একটি দেশের ক্ষতি নয়, বরং পুরো মানবজাতির স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি।এক নজরে পাস্তুর ইনস্টিটিউট:প্রতিষ্ঠা: ১৯২০ সাল।অবস্থান: তেহরান, ইরান।বিশেষত্ব: সংক্রামক ব্যাধি গবেষণা ও ভ্যাকসিন উৎপাদন।ক্ষয়ক্ষতি: মূল ভবনের বড় অংশ বিধ্বস্ত, মূল্যবান গবেষণাপত্র ও ল্যাবরেটরি ধ্বংস।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো