প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
হলুদ প্রান্তরে কৃষকের হাসি: চরফ্যাশনে সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনা
নতুন আলো ডেস্ক ||
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন কেবলই হলুদের সমারোহ। সবুজের বুকে হাজার হাজার সূর্যমুখী ফুল দোল খাচ্ছে বাতাসে। অল্প পুঁজিতে অধিক লাভজনক হওয়ায় এবার উপজেলার শশীভূষণ, রসুলপুর ও মাদ্রাজ ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি খেত এখন ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে, যা প্রকৃতিকে দিয়েছে এক নতুন রূপ।সাফল্যের গল্প রসুলপুর উত্তর আইচা গ্রামের কৃষক আবেদ হোসেন এবার এক একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তিনি জানান, প্রতি বছরই তিনি সূর্যমুখীর চাষ করেন এবং কখনো লোকসান হয়নি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার ও কারিগরি সহায়তা পাওয়ায় এবার আরও ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি। আবেদ হোসেন বলেন, "সূর্যমুখী চাষ করে আমি লাভবান হচ্ছি দেখে এলাকার শত শত কৃষক এখন এই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।"বহুমুখী ব্যবহার ও লাভ আরেক চাষি আবুল হাসান জানান, সূর্যমুখী কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এর বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনেক। এর বীজ থেকে উন্নত মানের ভোজ্যতেল ও খৈল পাওয়া যায়। বীজে ভেজে প্যাকেটজাত করে পর্যটন এলাকায় বিক্রি করা যায়। এছাড়াও সূর্যমুখীর মাঠে মৌচাক বসিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহ করা সম্ভব এবং শুকিয়ে যাওয়া গাছ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাসের মধ্যেই এই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।কৃষি অফিসের তৎপরতা চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, "চরাঞ্চলীয় এলাকায় সূর্যমুখী চাষ কৃষকদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি এবং সঠিক মূল্যের নিশ্চয়তা পেলে গ্রাম পর্যায়ে এই চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।" তিনি আরও জানান, কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কীটনাশক সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।উপজেলার কৃষকদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া এবং সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামীতে চরফ্যাশন সূর্যমুখী চাষের একটি অন্যতম হাবে পরিণত হবে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো