প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকার মশা মারা কি আটকে যেতে পারে ?
বিশেষ প্রতিনিধি , ঢাকা ||
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। ডিজেল সংকট এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে দৃশ্যমান—ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো যেন প্রতিদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকার মশা নিধন কার্যক্রমেও।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—দুই সিটি করপোরেশনেই উড়ন্ত মশা দমনে প্রতিদিন বিকেলে ‘ফগিং’ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ পদ্ধতিতে যন্ত্রের মাধ্যমে ওষুধের ধোঁয়া তৈরি করা হয়, যার জন্য প্রয়োজন হয় ডিজেল। কিন্তু বর্তমানে ঠিকাদারেরা পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় এই কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সূত্র অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বর্তমানে ফগিং কার্যক্রম চালাতে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রয়োজন প্রায় ২ লাখ লিটার। এই চাহিদা পূরণে ঠিকাদারদের পাশাপাশি দুই সিটি কর্তৃপক্ষও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ফগিংয়ে ‘মেলাথিয়ন’ ব্যবহার করে, যা প্রতি লিটার ডিজেলের সঙ্গে ৫ শতাংশ হারে মিশিয়ে প্রয়োগ করা হয়। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ব্যবহার করে ‘ডেলটামেট্রিন’, যা প্রতি লিটার ডিজেলের সঙ্গে ০.১ মিলিলিটার হারে মেশানো হয়। উত্তর সিটির ৫৪টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ১,১০০ লিটার (ডিজেল মিশ্রিত) মেলাথিয়ন প্রয়োজন হয়। গত ৩০ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, তাদের কাছে প্রায় ২৭ হাজার লিটার মেলাথিয়ন মজুত রয়েছে, যা দিয়ে অন্তত ২৫ দিন, অর্থাৎ ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যক্রম চালানো সম্ভব।
দক্ষিণ সিটির ক্ষেত্রে দৈনিক ওষুধের সুনির্দিষ্ট চাহিদা বা মজুতের পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি কর্মকর্তারা। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, তাদের কাছে অন্তত এক মাসের মতো মশা নিধনের ওষুধ রয়েছে।
এদিকে রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ফগিং কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি উঠেছে। কিন্তু ডিজেল সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং মশার বিস্তার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন গত ১২ মার্চ ১৬ কোটি ২৯ লাখ টাকার একটি কার্যাদেশ দেয়, যার মাধ্যমে ঠিকাদার এম আর এন্টারপ্রাইজকে ৩ লাখ ৬০ হাজার লিটার মেলাথিয়ন সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয় (সময়সীমা ১১ মে পর্যন্ত)। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ওষুধের সঙ্গে ডিজেল মিশিয়ে সরবরাহ করতে হবে। তবে ডিজেল সংকটের কারণে ঠিকাদার সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে। ঠিকাদার হাবিবুর রহমান গাজী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, মেলাথিয়ন প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল তিনি পাচ্ছেন না। তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩ লাখ ৬০ হাজার লিটার মেলাথিয়ন প্রস্তুতের জন্য প্রায় ৩ লাখ ২৭ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন। তিনি প্রশাসকের কাছে অনুরোধ করেছেন, সরকারি তেল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সুপারিশ করার জন্য।অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও ডিজেল সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে গত ১১ মার্চ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে। সেখানে ডেলটামেট্রিন প্রক্রিয়াকরণের জন্য ২ লাখ লিটার ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, ফরোওয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল (বিডি) লিমিটেডকে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫২০ লিটার ডেলটামেট্রিন সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ২ লাখ লিটার সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। তবে ঠিকাদার জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে দক্ষিণ সিটির হাতে প্রায় দুই থেকে আড়াই মাসের ওষুধ মজুত রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক হলে মশা নিধন কার্যক্রমে বড় ধরনের সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শাহজাদপুরে মশা নিধনে ফগিংয়ে সিটি করপোরেশনের একজন কর্মীতবে চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় মশার উপদ্রব ইতিমধ্যেই বেড়েছে। এই অবস্থায় ডিজেল সংকট অব্যাহত থাকলে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো