প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬
রাজশাহী মেডিকেলে আইসিইউ সংকট: এক মাসে অপেক্ষমাণ ২২৯ রোগীর মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রাজশাহী অঞ্চলের অন্যতম প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ঘিরে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শয্যা স্বল্পতার কারণে গত এক মাসে অপেক্ষমাণ অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন ২২৯ জন রোগী, যাদের মধ্যে ৯১ জনই শিশু। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি ১০০ শয্যার নতুন আইসিইউ স্থাপনের প্রস্তাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।বর্তমানে হাসপাতালটিতে মোট আইসিইউ শয্যা রয়েছে ৪০টি। এর মধ্যে শিশুদের জন্য ১২টি, বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য ১৬টি এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১২টি নির্ধারিত। তবে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য বিভাগ থেকে কিছু শয্যা কমিয়ে শিশু আইসিইউতে অতিরিক্ত ৬টি বেড যুক্ত করা হয়েছে।হাসপাতালের তথ্যমতে, মার্চ মাসে শিশু আইসিইউতে ভর্তি ছিল ১১৯ জন, আর অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল ৩৮৬ শিশু। এদের মধ্যে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বয়োজ্যেষ্ঠ রোগীদের ক্ষেত্রে ভর্তি ছিল ১৪৩ জন এবং অপেক্ষায় ছিলেন ৩০২ জন—এদের মধ্যে ৭০ জন মারা গেছেন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ভর্তি ছিল ১৩৫ জন, অপেক্ষায় ছিলেন ৩১২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬৮ জনের।চিকিৎসকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হাম ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ায় শিশুদের জটিলতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে হঠাৎ করেই আইসিইউর চাহিদা বেড়ে গেছে।সংকট সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে অতিরিক্ত অক্সিজেন লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস জানান, শিশু আইসিইউ শয্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে ১৮ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি বেড শুধুমাত্র হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের লক্ষণ নিয়ে। বর্তমানে নতুন ভর্তি হয়েছে ১৮ জন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছে ১২৩ জন শিশু।আইসিইউ সংকটের করুণ চিত্র উঠে এসেছে রোগীর স্বজনদের অভিজ্ঞতায়। কুষ্টিয়ার এক বাসিন্দা জানান, তাঁর পাঁচ মাস বয়সী মেয়ে আইসিইউ বেডের অপেক্ষায় ৩২ নম্বরে ছিলেন। চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে ২৭ মার্চ তার মৃত্যু হয়। একইভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি নয় মাস বয়সী শিশু ৩১ নম্বরে অপেক্ষমাণ থাকা অবস্থায় ২৬ মার্চ মারা যায়। একই দিনে ৩০ নম্বর সিরিয়ালে থাকা আরেক শিশুও প্রাণ হারায়।১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ২০১৩ সালে বাড়িয়ে ১,২০০ করা হলেও বাস্তবে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোগী এখানে ভর্তি থাকেন। ফলে সক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি চাপ সামলাতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।বর্তমানে শিশু আইসিইউতে ১৮টি বেড থাকলেও এর মধ্যে ১২টি হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্ধারিত, আর বাকি ৬টি অন্য রোগীদের জন্য। রাজশাহী বিভাগের বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকেও রোগী আসায় চাপ আরও বাড়ছে। বিশেষ করে এ অঞ্চলে শিশু আইসিইউ সুবিধার অভাব থাকায় প্রতিদিন গড়ে ৩০টির বেশি বেডের চাহিদা থাকে, যা মার্চ মাসে হঠাৎ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০টিতে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো