প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬
লালমনিরহাটের বর্ষা সু : ছোট দোকান থেকে বড় কারখানা, ঈদ ঘিরে কারিগরদের নির্ঘুম রাত।
নাহিদ হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি ||
লালমনিরহাট জেলার একমাত্র চামড়াজাত জুতা তৈরির কারখানা বর্ষা সু এখন স্থানীয় অর্থনীতির এক অনুপ্রেরণার নাম। এক সময়ের ছোট মেরামতের দোকানটি আজ রূপ নিয়েছে এক ব্যস্ত কারখানায়। সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর, আর এই ঈদকে ঘিরেই এখন দম ফেলার সময় নেই কারখানার কারিগর ও কর্মচারীদের।
‘বর্ষা সু’ কারখানায় তৈরি জুতার খ্যাতি এখন শুধু লালমনিরহাটেই সীমাবদ্ধ নেই। উন্নত মানের চামড়ার জুতা ও স্যান্ডেল পাইকারি দরে নিতে প্রতিদিন ভিড় করছেন কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও রংপুরের ব্যবসায়ীরা। সারা বছর ব্যস্ততা থাকলেও ঈদের মৌসুমে কাজের চাপ বেড়ে যায় কয়েক গুণ।
কারিগরদের কর্মযজ্ঞ ও আয়
কারখানা ঘুরে দেখা যায়, একেকটি জুতা তৈরিতে যুক্ত থাকেন চারজন কারিগর। কেউ জুতার উপরের অংশ বা ফিতা তৈরি করছেন, কেউ সেলাই করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত সোলের কাজে।
কারিগর বজলু মিয়া: জুতার সোলের কাজ করেন তিনি। প্রতি ডজন সোলের কাজের জন্য ৮৫০ টাকা মজুরি পান। দিনে দেড় ডজন পর্যন্ত জুতার ফিনিশিং দিতে পারেন তিনি।
কারিগর জাহিদুল ইসলাম: তিনি জুতার ফিতা ও চামড়া সেলাইয়ের কাজ করেন। দিনে দুই ডজন জুতার কাজ করে তার আয় হয় প্রায় ৮০০ টাকা।
সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত পণ্য
স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে বর্ষা সু আস্থার নাম। স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জু মিয়া বলেন, বাজারে যে জুতা ৮০০ টাকায় কিনতে হয়, এখান থেকে সরাসরি ৪০০ টাকায় পাওয়া যায়। বাজারে অনেক সময় প্যাকেটের মান ও ভেতরের জুতা এক হয় না, কিন্তু এখানে চোখের সামনে অর্ডার দিয়েও বানিয়ে নেওয়া যায়। প্রতারিত হওয়ার ভয় নেই।
উদ্যোক্তার স্বপ্ন ও সংকট
কারখানার মালিক বিমল দাস জানান, দীর্ঘ ৯ বছরের পরিশ্রমে তিনি এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। জুতা তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হয় ঢাকার গুলিস্তান ও বংশাল থেকে। তবে বর্তমান বাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ায় লাভের হার আগের চেয়ে কমে গেছে।
বিমল দাস বলেন, প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার জুতা বিক্রি হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে হাতে থাকে ২০-৩০ হাজার টাকা। আমার স্বপ্ন এখানে বড় কর্মসংস্থান তৈরি করা। যদি কম সুদে ব্যাংক ঋণ বা সরকারি প্রণোদনা পেতাম, তবে এই কারখানাটিকে আরও বড় করতে পারতাম।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো