প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬
নীরব ঘাতক কিডনি রোগ: আক্রান্ত ৮৫ কোটি মানুষ, সচেতনতায় গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
নাহিদ হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি ||
বিশ্বজুড়ে কিডনি রোগ এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে কিডনি রোগ বিশ্বের মৃত্যুর পঞ্চম প্রধান কারণ হয়ে উঠতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশেও পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব কিডনি দিবস’।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে— “সকলের জন্য কিডনি স্বাস্থ্য – মানুষের যত্ন নেওয়া, গ্রহকে রক্ষা করা”। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ র্যালির আয়োজন করেছে।
বাংলাদেশে কিডনি রোগের চিত্র
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে কিডনি রোগের প্রাদুর্ভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বর্তমানে দেশের প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কিডনি সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন। প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, যার বড় একটি অংশের জন্য নিয়মিত ডায়ালাইসিস প্রয়োজন।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডা. মীর রাশেদুল হাসান জানান, বাংলাদেশে কিডনি রোগের প্রধান কারণ হলো ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস। এছাড়াও পরিবেশ দূষণ ও ব্যথানাশক ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
উপসর্গ ও প্রতিরোধের উপায়
কিডনি রোগের বড় চ্যালেঞ্জ হলো এটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে না। প্রায় ৭৫ শতাংশ ক্ষতি হওয়ার আগে অনেক রোগী কোনো উপসর্গই বুঝতে পারেন না। বিশেষজ্ঞরা নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছেন:
প্রস্রাব কমে যাওয়া ও শরীর ফুলে যাওয়া।
দীর্ঘমেয়াদি বমি ভাব ও দুর্বলতা।
নতুন করে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেওয়া।
শ্বাসকষ্ট, রক্তশূন্যতা ও চুলকানি।
প্রতিরোধের ৫টি মূল মন্ত্র:
১. স্বাস্থ্যকর জীবনধারা ও ওজন নিয়ন্ত্রণ। ২. ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। ৩. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন বন্ধ করা। ৪. ধূমপান ও জাঙ্ক ফুড পরিহার। ৫. নিয়মিত রুটিন চেকআপ করা।
চিকিৎসা ব্যয় ও সরকারি উদ্যোগ
দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ও ট্রান্সপ্লান্ট অপরিহার্য। বেসরকারি হাসপাতালে প্রতি সেশন ডায়ালাইসিসে ৩,৫০০ টাকা খরচ হলেও সরকারি হাসপাতালে এটি মাত্র ৬১০ টাকায় পাওয়া সম্ভব। তবে সরকারি হাসপাতালে শয্যা ও শিডিউল সীমাবদ্ধ হওয়ায় অনেক গরিব রোগী বিপাকে পড়ছেন।
চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে আনতে সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এখন বেসরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস নিলেও রোগীরা সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে মাত্র ৬০০ টাকায় সুবিধা পেতে পারেন।
রেনাল অ্যাসোসিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু হাসপাতাল বাড়িয়ে এই সংকট দূর করা সম্ভব নয়; বরং জনসচেতনতা তৈরি ও ভেজাল খাবার রোধের মাধ্যমেই কিডনি রোগের ক্রমবর্ধমান হার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো