প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
শতবর্ষী গৌরীপুর জংশনে দুর্ভোগের চরম দশা: নেই সংস্কার, ঝুঁকিতে যাত্রীসেবা
নতুন আলো ডেস্ক ||
ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনটি আজ চরম অবহেলা ও ভগ্নদশায় ধুঁকছে। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১৭ সালে ব্রহ্মপুত্রের পূর্বপাড়ে নির্মিত শতবর্ষী এই জংশনটি একসময়ে এ অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান প্রাণকেন্দ্র থাকলেও, বর্তমানে জনবল সংকট ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে যাত্রীসেবা ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও স্টেশনটি আধুনিকায়নের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে না।ব্যস্ততম এই জংশনে প্রতিদিন শত শত যাত্রী যাতায়াত করলেও তাঁদের জন্য নেই কোনো বিশ্রামাগার। স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, যাত্রীছাউনি ও দালানকোঠাগুলো ব্রিটিশ আমলের হওয়ায় সেগুলোর মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে যাত্রীদের ভিজে একাকার হতে হয়। এ ছাড়া স্টেশনের একমাত্র ফুটওভারব্রিজটি বহুদিন ধরেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি করেছে। পুরো স্টেশনে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ থাকায় পরিবেশও অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর।গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার সফিকুল ইসলাম জানান, স্টেশনের দাপ্তরিক কাজের ৯টি বিভাগে ৩৫ জনের বিপরীতে বর্তমানে জনবল আছে মাত্র ২৪ জন। তিনি বলেন, আমাদের স্টেশনে মোট ৬টি লাইনের মধ্যে বর্তমানে সচল আছে মাত্র ৩টি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ট্রেনের সিগন্যাল ও লাইন পরিবর্তনের প্যানেল বোর্ডটি। অত্যন্ত পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এটি প্রায়ই অকেজো হয়ে পড়ে, যা ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।গুরুত্বপূর্ণ এই জংশনটি দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও জামালপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে আন্তনগর, কমিউটার, মেইল ও লোকাল ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখান থেকে ট্রেনে ওঠানামা করেন। জংশনটি দিয়ে চলাচলকারী উল্লেখযোগ্য ট্রেনের মধ্যে রয়েছে হাওর এক্সপ্রেস, মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, বিজয় এক্সপ্রেস, বলাকা ও মহুয়া কমিউটার।দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনের এই জরাজীর্ণ অবস্থা চললেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজর পড়েছে নামমাত্র। বিভিন্ন সময় পরিদর্শন করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে ময়মনসিংহ রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে স্টেশনের কিছু সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে শতাব্দীপ্রাচীন এই জংশনটিকে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও উন্নত অবকাঠামো দিয়ে ঢেলে সাজানো হোক, যাতে হাজারো যাত্রী নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারেন।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো