প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
ইউরোপে অবৈধ অনুপ্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশিরা: বলকান সীমান্ত পথেও দ্বিতীয় অবস্থানে
জাহিদ হোসেন, ইউরোপ প্রতিনিধি ||
ইউরোপে সাগর ও স্থলপথে অনিয়মিতভাবে প্রবেশের ঘটনায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতি আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে। এতদিন কেবল কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি ও স্পেনে প্রবেশের তালিকায় বাংলাদেশিরা শীর্ষে থাকলেও, এবার ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় বলকান সীমান্ত পথেও দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে তারা।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের (Frontex) ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ কমে প্রায় ২১ হাজার ৪০০-তে নেমে এসেছে। তবে সংখ্যা কমলেও একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশিদের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার প্রবণতা কমেনি।কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগর রুট : লিবিয়া ও তিউনিসিয়া থেকে ইতালির দিকে যাওয়ার এই রুটে প্রথম তিন মাসে প্রায় ৬ হাজার ২০০ জন অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত হয়েছে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশিরা।পূর্বাঞ্চলীয় বলকান রুট : ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে ৬৮২ জন অভিবাসী প্রবেশ করেছেন। এই পথে ইউক্রেনের নাগরিকদের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। আগে এই পথে এত বেশি বাংলাদেশি কখনো শনাক্ত হয়নি।পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুট : তুরস্ক হয়ে গ্রিস সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের এই পথে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জনের প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে। এটিও বাংলাদেশিদের কাছে একটি জনপ্রিয় রুট।ফ্রন্টেক্সের প্রতিবেদনে অনুপ্রবেশের সংখ্যা কম দেখালেও মানবিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ভূমধ্যসাগরে প্রায় ১ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং জরাজীর্ণ নৌকায় করে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে পাচারকারী চক্রগুলো অবগত থাকলেও বিপুল মুনাফার লোভে তারা সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করছে। বিশেষ করে দালালের মাধ্যমে তুরস্ক বা উত্তর আফ্রিকা হয়ে ইউরোপে ঢোকার স্বপ্ন দেখিয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশিকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো