প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
গাজীপুরে বিদেশি আঙুর চাষে বাজিমাত: সেনাসদস্য আবুল হাসেমের অভাবনীয় সাফল্য
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সুমিষ্ট আর রসালো ফল হিসেবে বিদেশি আঙুরের চাহিদা আমাদের দেশে সবসময়ই তুঙ্গে। আকাশছোঁয়া দামের কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকলেও, এবার দেশের মাটিতেই সেই সুমিষ্ট আঙুর ফলিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. আবুল হাসেম মোড়ল। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার এই আঙুর বাগান এখন এলাকাবাসীর কাছে বিস্ময়ের কেন্দ্রবিন্দু।সরেজমিনে শ্রীপুরের রাজাবাড়ী ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এক মনোরম দৃশ্য। সাঈদ আলী মোড়লের ছেলে আবুল হাসেম মোড়ল তার এক বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন এই বিশেষ আঙুর বাগান। বাগানের ওপর বাঁশের মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলে রয়েছে লাল ও সবুজ রঙের আঙুর। পাখির আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে পুরো বাগানটি সুতার জাল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আট মাস আগে রোপণ করা প্রতিটি লতানো গাছে এখন বাহারি আঙুরের সমাহার।বাগানের মালিক আবুল হাসেম জানান, তার প্রবাসী ছেলের ইচ্ছাতেই তিনি এই উদ্যোগ নেন। বাগানের চারাগুলো কোনো এক জায়গা থেকে নয়, বরং রাজশাহী ও নাটোরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগে আমাদের দেশে যে আঙুর চাষ হতো তা কিছুটা টক ছিল। কিন্তু বর্তমানের এই নতুন জাতগুলো আমাদের মাটি ও আবহাওয়ার জন্য উপযোগী এবং এগুলো খেতে অত্যন্ত সুমিষ্ট।আঙুর বাগানের পরিচর্যাকারী মেজবাহ উদ্দিন জানান, রোপণের মাত্র আট মাসের মাথায় ফলন আসতে শুরু করেছে। প্রথম বছর হিসেবে ফলন কিছুটা কম মনে হলেও আগামী বছর বাণিজ্যিকভাবে আরও বড় সাফল্যের আশা করছেন তারা। আবুল হাসেমের মতে, বাণিজ্যিকভাবে দেশে এই বিদেশি আঙুরের চাষ বৃদ্ধি পেলে বাজারে দাম কমবে এবং দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে।শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, চিনাশুকানিয়া গ্রামে হাইব্রিড বাইকুনুরসহ বেশ কয়েকটি উন্নত জাতের আঙুর চাষ হয়েছে। কৃষকের এই সাফল্যের মাধ্যমে আমাদের আমদানিনির্ভরতা কমবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শ্রীপুরের পক্ষ থেকে আমরা নিয়মিত কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি এবং আশা করছি দেশে এই বিদেশি ফলের চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো