প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
জনগণই রাষ্ট্রের মালিক, কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
বিশেষ প্রতিনিধি , ঢাকা ||
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশ ও জনগণের প্রকৃত স্বার্থ নিশ্চিত করতে বিএনপি সরকার একটি সুদক্ষ, প্রশিক্ষিত এবং দেশপ্রেমিক জনপ্রশাসন দেখতে চায়। একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের জন্য মেধাভিত্তিক ও জনবান্ধব প্রশাসনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে মেধা ও সততার মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।শনিবার সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম (BIAM) ফাউন্ডেশনের তৃতীয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে সরকারের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক সেই গণ-অভ্যুত্থান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ। সুতরাং, জনপ্রশাসনের প্রতিটি কর্মকর্তার প্রধান দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের মালিক সেই জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা।তিনি কর্মকর্তাদের কেবল প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে না দেখে নিজেদের জনগণের সেবক হিসেবে ভাবার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশের মানুষ সরাসরি ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত করেছে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা শেষে মানুষ এখন একটি জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা আশা করে। জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাই হবে বর্তমান প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ।বর্তমান সরকার মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বা মেধাতন্ত্রের বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এখন থেকে রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়োগ, বদলি এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করবে না। মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, কর্মদক্ষতা এবং অভিজ্ঞতাই হবে একমাত্র বিবেচ্য বিষয়।প্রশাসনিক সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে শূন্য পদে সরকারি কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC) গঠন এবং প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে গোটা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি সার্ভিস রুলস প্রণয়নসহ সর্বত্র জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বিয়াম ফাউন্ডেশনের তৃতীয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তিনি বিয়ামের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। তিনি কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন যে, সততা ও দক্ষতার সাথে কাজ করলে সরকার সবসময় তাদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, আপনাদের সততা ও দায়বদ্ধতাই হবে আমাদের সরকারের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, সরকারের ঊর্ধ্বতন সচিবগণ এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বিয়াম চত্বরে একটি স্মারক বৃক্ষ রোপণ করেন।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো