প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ভাইরাল বিউটি হ্যাকসে মজলেই বিপদ: নিজের ত্বকের ক্ষতি করছেন না তো?
নতুন আলো ডেস্ক ||
আজকাল অবসর মানেই স্মার্টফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকা। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের রিলস স্ক্রল করতে করতে আমাদের চোখে পড়ে নজরকাড়া সব বিউটি হ্যাকস। কাঁচের মতো স্বচ্ছ ত্বক (Glass Skin) বা মুহূর্তেই চেহারা উজ্জ্বল করে তোলার জাদুকরী সব টিপস দেখে আমরা সহজেই প্রলুব্ধ হয়ে পড়ি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ক্যামেরার ফিল্টারে যা নিখুঁত দেখায়, বাস্তবে তা সব সময় কাজ করে না। বিশেষ করে বাংলাদেশের ভ্যাপসা গরম আর ধুলাবালুর মধ্যে বিদেশি ট্রেন্ড অন্ধভাবে মেনে চলা নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনার মতোই।এ বিষয়ে কথা বলেছেন দেশের জনপ্রিয় রূপবিশেষজ্ঞ ও শোভন মেকওভারের স্বত্বাধিকারী শোভন সাহা। তিনি বলেন, অন্যের দেখাদেখি ট্রেন্ডে গা না ভাসিয়ে নিজের ত্বকের ধরন বোঝাটা বেশি জরুরি। কিছু ট্রেন্ড আসলে আমাদের ত্বকের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করছে।কোরিয়ান নারীদের মতো উজ্জ্বল এবং পোরলেস গ্লাস স্কিন পাওয়ার জন্য তরুণীরা এখন পাগলপ্রায়। এই লুক পেতে একের পর এক সেরাম ও ময়শ্চারাইজার ত্বকে মাখতে হয়। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে বাংলাদেশের আবহাওয়া আর কোরিয়ার আবহাওয়া একেবারেই ভিন্ন। আমাদের দেশের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও গরমে ত্বকে তেলের উৎপাদন এমনিতেই বেশি হয়। এর ওপর স্তরে স্তরে ভারী সব প্রসাধনী ব্যবহার করলে রোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ এবং র্যাশের সমস্যা বেড়ে যায়। অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তর বা স্কিন ব্যারিয়ার স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায় টুথপেস্ট দিয়ে ব্রণের চিকিৎসা কিংবা বেকিং সোডা ও লেবুর রস দিয়ে ত্বক ফর্সা করার টিপস। এগুলো আসলে বিউটি হ্যাকস নয়, বরং ত্বকের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি। লেবুর রস বা সোডা ত্বকের প্রাকৃতিক পিএইচ (pH) ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়, যা থেকে তীব্র জ্বালাপোড়া বা পিগমেন্টেশন হতে পারে। আমাদের দেশের মানুষের ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেশি থাকে, তাই এসব ভুল পরীক্ষায় ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী কালো দাগ পড়ে যেতে পারে।বিউটি ইনফ্লুয়েন্সাররা প্রায়ই দাবি করেন, প্রতিদিন স্ক্রাবিং কিংবা অ্যাসিড এক্সফোলিয়েশন করলে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে যাবে। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বকের ওপরের পাতলা আবরণটি তুলে ফেলে। ফলে ত্বক রোদে আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। আমাদের দেশে প্রাকৃতিকভাবে রোদ প্রখর হয়, যা থেকে সানবার্ন ও অকালে বলিরেখা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। শোভন সাহার মতে, সপ্তাহে বড়জোর দুবার এক্সফোলিয়েশন এবং নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারই ত্বকের যত্নে যথেষ্ট।১০ ধাপের জটিল রুটিন কি প্রয়োজন?টোনার, সেরাম, এসেন্স, অ্যাম্পুল—একের পর এক পণ্য ব্যবহারের এই ১০ ধাপের রুটিন এখন বেশ জনপ্রিয়। এটি যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি আমাদের দেশের আবহাওয়ার জন্যও অনুপযোগী। এত সব রাসায়নিকের ভিড়ে ত্বক নিশ্বাস নেওয়ার সুযোগ পায় না। ফলে ব্রেকআউট কিংবা ব্রণের সমস্যা বেড়ে যায়। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের যত্ন হওয়া উচিত সাধারণ এবং বিজ্ঞানসম্মত। ক্লিনজার, ময়শ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন—এই তিনটি মৌলিক ধাপ মেনে চলাই সবচেয়ে কার্যকর।কোনো বিউটি প্রোডাক্ট ভাইরাল হয়েছে বা আপনার প্রিয় তারকা সেটি ব্যবহার করছেন মানেই যে তা আপনার ত্বকের জন্য ভালো, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। মনে রাখতে হবে, এসব কনটেন্টের বড় অংশ থাকে বিজ্ঞাপন বা স্পনসরড। তারা আপনার ত্বকের ধরন বা জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বকের যত্নের যেকোনো পণ্য কাজ শুরু করতে কমপক্ষে ২১ দিন সময় নেয়। তাই রাতারাতি জাদুকরী ফল আশা করা বোকামি। রূপচর্চা করার আগে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে নিজের ত্বকের ধরন বুঝে নির্দিষ্ট পণ্য ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো