প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
হাওরে কৃষকের হাহাকার: পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে ডুবছে সোনালি স্বপ্ন
নতুন আলো ডেস্ক ||
সিলেটের হাওরাঞ্চলে এবারের বোরো মৌসুম শুরু হয়েছিল খরা দিয়ে, আর শেষ হচ্ছে চোখের জলে। টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের ধান উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উৎস হাওরাঞ্চল এখন পানির নিচে। পাকা ধান ঘরে তোলার শেষ মুহূর্তে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকের গোলার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় খাদ্য মজুদেও টান পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।জেলাভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র :সুনামগঞ্জ: হাওরবেষ্টিত এই জেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে বলে কৃষকরা দাবি করলেও কৃষি অধিদপ্তর ৯ হাজার হেক্টর তলিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। জেলার ৪৭ শতাংশ ধান কাটা হলেও এখনো মাঠেই রয়ে গেছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৮২ হেক্টর জমির ফসল। শ্রমিকের অভাব এবং ভেজা ধান শুকাতে না পারায় অনেক কৃষক ফসল কাটার আশা ছেড়ে দিয়েছেন।কিশোরগঞ্জ: ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের হাওরগুলোতে এখন উৎসবের বদলে নীরব হাহাকার। কৃষকদের দাবি অনুযায়ী, এখনো প্রায় ৬৫ শতাংশ ধান মাঠেই রয়ে গেছে যা দ্রুত তলিয়ে যাচ্ছে।নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ: নেত্রকোনায় এ পর্যন্ত ২২১৫ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে এবং নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে হবিগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচংয়ের বিস্তীর্ণ হাওর তলিয়ে গেছে।মৌলভীবাজার: নতুন নতুন এলাকায় পানি প্রবেশ করায় কৃষকরা খালি হাতে মাঠ থেকে ফিরছেন। অগ্রিম টাকা নিয়ে চাষাবাদ করা কৃষকরা এখন দেনা পরিশোধের চিন্তায় দিশেহারা।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৩ থেকে ৪ দিন দেশের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে এবং নদ-নদীর পানি বেড়ে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে。সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, মাঠের ১২ আনা ধানই কাটার বাকি, কিন্তু শ্রমিকের অভাবে এবং বৃষ্টির কারণে ধান ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। কাটা ধানও স্তূপ করে রাখায় অঙ্কুর গজিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই চিত্র মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জেও, যেখানে চোখের সামনে ধানখেত ডুবে যেতে দেখেও কৃষকরা কিছুই করতে পারছেন না।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো