প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
মার্কিন অবরোধ রুখতে পাকিস্তানের ল্যান্ড ব্রিজ : সংকটে ভারতের চাবাহার বন্দর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মাঝে এক সাহসী কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধকে পাশ কাটিয়ে ইরানে পণ্য পরিবহনের জন্য ছয়টি ল্যান্ড ব্রিজ বা স্থলপথ উন্মুক্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইসলামাবাদ। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল ইরানের ওপর মার্কিন চাপ কমাবে না, বরং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বাণিজ্যিক মানচিত্রও বদলে দিতে পারে।গত ২৫ এপ্রিল পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ট্রানজিট অব গুডস থ্রু টেরিটরি অব পাকিস্তান অর্ডার ২০২৬ শিরোনামে একটি বিশেষ গেজেট প্রকাশ করেছে। এই আদেশের মাধ্যমে করাচি, গদর ও পোর্ট কাসিম বন্দরকে ইরানের গাব্দ এবং তাফতান সীমান্ত পারাপারের সঙ্গে সংযুক্ত করে ছয়টি ট্রানজিট রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে তৃতীয় দেশের কার্গো পাকিস্তানি বন্দর ব্যবহার করে সরাসরি সড়কপথে ইরানে প্রবেশ করতে পারবে, যা চীন বা অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জন্য মার্কিন সমুদ্রপথের অবরোধ এড়িয়ে পণ্য পাঠানোর সুযোগ করে দেবে। পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারত। গত দুই দশকে ভারত ইরানের চাবাহার বন্দরে বিপুল বিনিয়োগ করেছিল পাকিস্তানকে এড়িয়ে মধ্য এশিয়ায় প্রবেশের জন্য। কিন্তু মার্কিন অবরোধে চাবাহার অচল হয়ে পড়ায় ভারতের সেই বিনিয়োগ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। অন্যদিকে, চাবাহার থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাকিস্তানের গদর বন্দর এখন ইরানের বিকল্প বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হয়ে উঠেছে।গত ১৩ এপ্রিল থেকে মার্কিন অবরোধের কারণে করাচি বন্দরে ইরানের প্রায় তিন হাজার কনটেইনার আটকা পড়েছিল। এই বাণিজ্যের চাকা সচল করতে পাকিস্তান ২০০৮ সালের একটি পুরোনো দ্বিপক্ষীয় সড়ক পরিবহন চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করেছে। তবে এই ল্যান্ড ব্রিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যাংকিং জটিলতা, কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লে পাকিস্তানের পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা সংকটে পড়তে পারে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পদক্ষেপ সম্পর্কে অবগত থাকলেও এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেননি, যা অনেককে অবাক করেছে। তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে এখনো শঙ্কা কাটেনি।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো