প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬
সাড়ে পাঁচ শতাব্দী পেরিয়ে বাবা আদম মসজিদ: অযত্নে হারাচ্ছে জৌলুস।
নাহিদ হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি ||
বাংলার সুলতানি আমলের স্থাপত্যকলার অনন্য নিদর্শন মুন্সিগঞ্জের ঐতিহাসিক বাবা আদম মসজিদ আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ১৪৮৩ সালে সুলতান জালাল উদ্দিন ফতেহ শাহের শাসনামলে নির্মিত এই মসজিদটি প্রায় সাড়ে পাঁচশ বছর ধরে সগৌরবে ইসলামের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। তবে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে প্রাচীন এই প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদটি এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।
ঐতিহাসিক পটভূমি
জনশ্রুতি অনুযায়ী, ১০৯৯ সালে তায়েফে জন্মগ্রহণকারী সুফি সাধক বাবা আদম ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ১১৭৮ সালে মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমে আসেন। তৎকালীন রাজা বল্লাল সেনের সঙ্গে যুদ্ধে তিনি শহীদ হন এবং এখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যুর ৩১৯ বছর পর মালিক কাফুরের তত্ত্বাবধানে এই দরগাবাড়ি এলাকায় মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।
স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণ বৈশিষ্ট্য
ছয় গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪৩ ফুট এবং প্রস্থ ৩৬ ফুট। চার ফুট চওড়া দেয়ালগুলো লাল পোড়ামাটির ইট ও সুরকি দিয়ে নির্মিত। উত্তর-দক্ষিণে লম্বা এই ভবনের সম্মুখভাগে তিনটি খিলান আকৃতির প্রবেশপথ রয়েছে। মসজিদের ভেতরে চারটি ত্রিভুজাকৃতির স্তম্ভ এবং মুসলিম স্থাপত্যকলার নিপুণ কারুকাজ যে কাউকে মুগ্ধ করে। স্থানীয়দের মধ্যে একটি বিশ্বাস প্রচলিত আছে যে, মসজিদের ভেতরের দুটি পিলারের একটি সবসময় গরম এবং অন্যটি ঠান্ডা থাকে।
রক্ষণাবেক্ষণের অভাব
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের অবহেলায় মসজিদের দেয়ালে শ্যাওলা পড়েছে এবং বেশ কিছু স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। মসজিদ কমিটির সভাপতি খন্দকার মোহাম্মদ হোসেন রেনু জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ একবার সংস্কার করেছিল, এরপর আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
মসজিদের ইমাম মাওলানা সানাউল্লাহ বলেন:
"বৃষ্টি হলে ভেতরে পানি পড়ে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে থাকায় আমরা চাইলেও কোনো সংস্কার করতে পারছি না। প্রতি জুমায় এখানে ৫ শ থেকে ৭ শ মুসল্লি হন, কিন্তু জায়গার অভাবে অনেকেই নামাজ পড়তে কষ্ট পান।"
পর্যটন ও যোগাযোগ
১৯৯১ সালে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এই মসজিদের ছবি দিয়ে ডাকটিকিট প্রকাশ করলেও বর্তমানে পর্যটন সুবিধা এখানে অত্যন্ত সীমিত। ঢাকা থেকে মাত্র ২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মসজিদে সড়ক ও নৌপথ উভয় মাধ্যমেই সহজেই পৌঁছানো যায়। সদরঘাট থেকে নৌপথে মিরকাদিমের কাঠপট্টি ঘাট হয়ে মাত্র আধা কিলোমিটার পথ পেরোলেই দেখা মিলবে এই ঐতিহাসিক স্থাপনার।
ঐতিহাসিক এই অমূল্য সম্পদ রক্ষায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা।
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো