প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
তীব্র সৈন্য সংকটে ইসরাইলি বাহিনী, অবিলম্বে ১৫ হাজার সেনা চান সেনাপ্রধান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
গাজা, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক তৎপরতার মাঝেই তীব্র সৈন্য সংকটে পড়েছে ইসরাইল। দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর জন্য অবিলম্বে অতিরিক্ত সৈন্য প্রয়োজন বলে জরুরি বার্তা দিয়েছেন ইসরাইলি সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াল জামির।গতকাল রোববার (১০ মে) ইসরাইলের সংসদ নেসেট-এর পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা কমিটির এক জরুরি বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। ইসরাইলের স্থানীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওত আহরনোত-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।বৈঠকে সেনাপ্রধান ইয়াল জামির উল্লেখ করেন, গাজা ছাড়াও লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল বর্তমানে বহুমুখী ফ্রন্টে যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমানে এই সংঘর্ষগুলোতে এক ধরনের যুদ্ধবিরতি চলছে, তবুও ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা ও প্রস্তুতি নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে।জামির স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক বা আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না, বরং তাঁর পুরো মনোযোগ এখন শত্রুকে পরাজিত করার দিকে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বজায় রাখতে হলে এখনই নতুন জনবল নিয়োগ করা অপরিহার্য।এর আগে গত মার্চ মাসে জেনারেল জামির সতর্ক করেছিলেন যে, কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক সেবা এবং রিজার্ভ ডিউটি সংক্রান্ত আইন পাসে নেতানিয়াহু সরকারের ব্যর্থতা এবং বাধ্যতামূলক সেবার মেয়াদ ৩৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি না করায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী ভেতর থেকে ভেঙে পড়ছে।সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইফি দেফরিন জানান, সামরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বর্তমানে আনুমানিক ১৫ হাজার অতিরিক্ত সৈন্য প্রয়োজন, যার মধ্যে অন্তত ৭ থেকে ৮ হাজার হতে হবে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়ার মতো সম্মুখযোদ্ধা। এই সংকট নিরসনে দ্রুত একটি কার্যকর নিয়োগ আইন প্রণয়ন করাকে অপরিহার্য বলে মনে করছে সামরিক নেতৃত্ব।ইসরাইলের প্রায় ৯৯ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে হারিদি (Haredi) বা কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের হার প্রায় ১৩ শতাংশ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তারা সামরিক সেবার পরিবর্তে কেবল ধর্মীয় গ্রন্থ তোরাহ পাঠে মনোনিবেশ করার বিশেষ সুযোগ পেয়ে আসছে।যদিও ইসরাইলে ১৮ বছর বয়সী সকল নাগরিকের (নারী ও পুরুষ) জন্য সামরিক সেবা দেওয়া বাধ্যতামূলক, তবুও হারিদিদের এই বিশেষ ছাড় পাওয়ার বিষয়টি সাধারণ ইসরাইলি সমাজে তীব্র বৈষম্য ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। চলমান যুদ্ধের মাঝে সেনাবাহিনীর এই অতিরিক্ত সৈন্যের দাবি কট্টরপন্থী ও সাধারণ ইসরাইলিদের মধ্যকার রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনাকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে, যা বর্তমান সরকারকে বড় ধরনের চাপে ফেলেছে।সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো